উই মেক মিসটেকসের ১৩তম প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান
উই মেক মিসটেকসের ১৩তম প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

ইংরেজিতে কথা বলার জড়তা কাটানোর উদ্যোগ ‘উই মেক মিসটেকস’

হাজারো শিশুকে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা বাড়িয়ে দিয়েছে ২০২০ সালে উদ্যোগ নেওয়া ‘উই মেক মিসটেকস’ প্রতিযোগিতা। 

রুদ্র রাহা। মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুর কালীপ্রসন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আগে কারও সামনে ইংরেজিতে কথা বলতে লজ্জা পেত। বলতে গেলে ভয়ে ভয়ে তোতলাতে থাকত। তবে গত দুই বছরে ‘উই মেক মিসটেকস’ নামের একটি ইংরেজি বলার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তার কথা বলার দক্ষতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আত্মবিশ্বাস।

রুদ্র রাহা প্রথম আলোকে বলে, ‘আমি চারবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। এতে বড় ধরনের সফলতা এসেছে। আগে আমি কারও সঙ্গে কথা বলতেই ভয় পেতাম, এখন আমি যেকোনো বিষয়ে সহজেই ইংরেজিতে কথা বলতে পারি।’

মাগুরায় রুদ্র রাহার মতো হাজারো শিশুকে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা বাড়িয়ে দিয়েছে ২০২০ সালে উদ্যোগ নেওয়া ‘উই মেক মিসটেকস’ প্রতিযোগিতা। শিশুদের ইংরেজিভীতি দূর করতে ওই উদ্যোগ নিয়েছিলেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন কবীর। পরে ২০২১ সালে প্রথমবার এটি বড় পরিসরে ‘উই মেক মিসটেকস’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসন এটি জেলাব্যাপী আয়োজন শুরু করে। সবশেষ গত নভেম্বরে প্রতিযোগিতার ১৩তম আসর বসেছিল। ‘উই মেক মিসটেকস’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে এটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গ্রুপে এখন সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। এ কর্মসূচিতে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপলক্ষে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচ–ছয়টি গ্রুপের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিষয় দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট একটি সময়ে শিক্ষার্থীরা ওই বিষয়ে ইংরেজিতে ভিডিও তৈরি করে আপলোড দেয় ফেসবুক গ্রুপে। পরে একটি বিচারক প্যানেল প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। 

বিসিএস ৩১ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন কবীর বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইংরেজিতে পড়ালেখা করতে গিয়ে দেখেছি, এটার দুর্বলতার মূল কারণ হচ্ছে ইংরেজিতে কথা না বলা। বিভিন্ন সময়ে ক্যামেরার সামনে উপস্থাপনা করতে গিয়ে দেখেছি, এটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জ। তখন মনে হলো, এমন একটা উদ্যোগ যদি নেওয়া যায়, যেখানে শিশুরা বাসায় বসে ইংরেজিতে ভিডিও তৈরি করে আপলোড করবে, তাহলে তাদের স্পিকিং স্কিলের ভালো উন্নতি হবে। একটা শিশু সঠিকভাবে উপস্থাপনা করতে গিয়ে একটা ভিডিও বারবার রেকর্ডিং করতে গিয়ে যেসব ভুল করছে, তা থেকে সে শিখছে, এ কারণেই এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল “উই মেক মিসটেকস”। এই নাম দেওয়ার আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিশুরা যেন ভুল করার ভয়ে থেমে না যায়।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত জেলার ৮ হাজারের বেশি শিশু অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিযোগিতায় চারবার অংশ নিয়েছে মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মুশফিকা জাহান। সে প্রথম আলোকে বলে, ‘বড় বিষয় হচ্ছে পুরো জেলার হাজারো শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজেকে উপস্থাপনের সুযোগ পাই।’

এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্যোগটিকে আরও ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান এবং উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নিয়মিত মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামারের কথা চিন্তা করে এবং ভুল করার লজ্জার কথা ভাবতে গিয়ে আমাদের শিশুরা ইংরেজিতে পিছিয়ে যায়। শিশুদের এই ভয় দূর করতে এই উদ্যোগটা চমৎকার। নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে উদ্যোগটিকে জেলা প্রশাসন একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করে।’

শুরু থেকেই এ উদ্যোগের সঙ্গে আছেন মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্যা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন যারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে, তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসের নিজেদের উপস্থাপন করার আত্মবিশ্বাস পাবে।’