
দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে পুকুরে গোসল করতে যান বৃদ্ধ আবু সিদ্দিক পাটোয়ারী (৭০)। বাড়ির পাশের পুকুরের ঘাটে দুই শিশুকে বসিয়ে তিনি পুকুরে নামেন। পুকুরে নেমে একবার ডুব দেওয়ার পর আর ওঠেননি তিনি। দীর্ঘক্ষণ তিনি না ওঠায় তার দুই নাতি-নাতনি পুকুরে নেমে যায় খুঁজতে। সাঁতার না জানায় সঙ্গে সঙ্গে পানিতে তলিয়ে যায় তারা।
বিষয়টি দূর থেকে দেখে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে উদ্ধার করেন তিনজনকেই। তাঁদের মধ্যে আবু সিদ্দিক ও তাঁর নাতনি পপি আক্তারকে(৮) মৃত অবস্থায় পুকুরে পাওয়া যায়। আবু সিদ্দিকের ৮ বছর বয়সী অপর নাতি মো. পিয়াসকে গুরুতর আহত অবস্থায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
আজ রোববার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের উত্তর শাকচর গ্রামের ইব্রাহিম পাটোয়ারীর বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একসঙ্গে তিনজনকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
জানা গেছে, নিহত আবু সিদ্দিক পাটোয়ারী সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ইব্রাহিম পাটোয়ারী বাড়ির আবদুল মান্নান পাটোয়ারীর ছেলে। নিহত পিয়াস তাঁর (সিদ্দিক) ছেলে আবদুল আজিজের সন্তান ও পপি তাঁর মেয়ে সুমি আক্তারের সন্তান।
ওই এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আবু সিদ্দিক তাঁর দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যায়। তিনি পানিতে নেমে ডুব দেওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ ওঠেননি। খুব সম্ভবত তিনি পানির নিচে স্ট্রোক করেছেন। দুই নাতি-নাতনি পিয়াস ও পপি তাঁকে পানিতে খুঁজতে গিয়ে ডুবে মারা যায়।
একসঙ্গে দাদা ও দুই নাতি-নাতনির মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। যে দুই শিশুকে নিয়ে পুকুরে গিয়েছিলেন আবু সিদ্দিক, কিছুক্ষণ পর তাঁদের তিনজনের নিথর দেহই বাড়িতে ফিরেছে—এমন দৃশ্য কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি দূর থেকে দেখে ছুটে গিয়ে উদ্ধার করি। কিন্তু ততক্ষণে তাঁদের বাঁচানো যায়নি। একই পরিবারের একজন বয়স্ক ব্যক্তি ও দুই শিশুর মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না কেউই।’
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, ‘পুকুরের পানিতে ডুবে দাদা ও তাঁর দুই নাতি-নাতনির মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাটি হৃদয়বিদারক।’