আইনজীবী সাইফুল ইসলাম
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম

আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলায় সাক্ষ্য শুরু

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাহিদুল হকের আদালতে এই মামলার সাক্ষ্য শুরু হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস ইউ এম নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত আইনজীবী সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন এই মামলার বাদী। সাক্ষ্য গ্রহণের প্রথম দিন বাদীর সাক্ষ্য নেন আদালত। আদালতে বাদী জামাল উদ্দিন তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার বর্ণনা দেন। আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

পিপি আরও বলেন, শুনানির শুরুতে কারাগারে থাকা অন্যতম আলোচিত আসামি চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছাড়া সব আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগার ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। তবে জবানবন্দি শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী বাদীকে জেরা করার জন্য আদালতের কাছে সময়ের আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

গত বছরের ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। পরে বাদী না রাজি দিলে একই বছরের ২৫ আগস্ট আদালত আসামি সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ১৪ জানুয়ারি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, সাইফুল হত্যার আসামিদের মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন রিপন দাস। আর কিরিচ দিয়ে কোপান চন্দন দাস। পরে ১৫ থেকে ২০ জন আইনজীবীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন।