মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সিরিয়াল অমান্য করে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে ফিলিং স্টেশনে পিটুনির শিকার হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। মঙ্গলবার দুপুরে
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সিরিয়াল অমান্য করে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে ফিলিং স্টেশনে পিটুনির শিকার হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। মঙ্গলবার দুপুরে

প্রভাব খাটিয়ে ‘আগে তেল নেওয়ার’ চেষ্টা, ফিলিং স্টেশনে বিএনপি নেতাকে পিটুনি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে সিরিয়াল অমান্য করে আগে তেল নিতে গিয়ে বিএনপির এক নেতা স্থানীয় লোকজনের পিটুনির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গোপালনগর গ্রামের রূপক ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

পিটুনির শিকার বিএনপি নেতার নাম আবদুল ওহাব (বুলবুল)। তিনি গাংনী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তবে নিয়মমাফিক তেল না দেওয়ার অভিযোগ করতে গিয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিক ও কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে নিজের মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য রূপক ফিলিং স্টেশনে যান আবদুল ওহাব। এ সময় ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি থাকলেও তিনি সিরিয়াল অমান্য করে প্রভাব খাটিয়ে আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ লোকজন ও পাম্পের কর্মচারীরা বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান তিনি। একপর্যায়ে উপস্থিত জনতা ও পাম্পের কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সংঘবদ্ধভাবে তাঁকে পিটুনি দেন। পরে উপস্থিত কয়েকজন তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতা আবদুল ওহাব প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাম্পের মালিক ক্রেতাদের নিয়মমাফিক জ্বালানি তেল দিচ্ছেন না, এমন অভিযোগ জানাতে গেলে মালিক ও কর্মচারীরা আমার ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফিলিং স্টেশনের মালিক রহমান মিয়া বলেন, ‘আবদুল ওহাব নেতা মানুষ। এখন যে পরিবেশ চলছে, এই সময়ে তিনি ক্ষমতার প্রভাব দেখাতে গিয়ে জনগণের হাতে পিটুনির শিকার হয়েছেন। বিষয়টি দুঃখজনক।’

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস প্রথম আলোকে বলেন, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বা ভুক্তভোগী নেতার পক্ষ থেকে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে।