চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বাদুরতলা গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছেন আরও দুজন। আজ মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এই তিনজন হলেন লক্ষ্মীপুর বাদুরতলা গ্রামের মো. ভিখু মন্ডলের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪৮), তাঁর নাতনি হাজিপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি ছাত্রী মীম খাতুন (১২) ও হাসিনা বেগমের ভাতিজি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোচুয়া মোহনপুর গ্রামের এরশাদ আলীর মেয়ে আশা খাতুন (৩৫)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার এসআই আরিফুর রহমান জানান, মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামের লোকজন ও এরশাদ আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির ছাদে ওঠার লোহার মই আগে থেকেই বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। সকালে ছাগলের জন্য মইয়ে পাতা বাধার সময় হাসিনা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। নানিকে বাঁচাতে এসে নাতনি মীম খাতুনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আশা খাতুন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
তিনজনকে হারিয়ে শোকগ্রস্ত হয়ে বসে ছিলেন এরশাদ আলী। তিনি বলেন, মেয়ে আশা খাতুন তাঁর ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রিফাতকে নিয়ে এক সপ্তাহ আগে ফুফুর বাড়ি বেড়াতে আসে। আশা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আশার পিত্তথলির একটি অস্ত্রোপচার হওয়ায় একমাস হলো বাড়িতে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঢাকায় যাওয়ার আগে একমাত্র ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।