
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোট আটকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করার পাশাপাশি নগদ টাকা, মুঠোফোন, স্পিডবোটের ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যায় দলটি।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ন-সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ডাকাতির শিকার ব্যবসায়ী লিটন মোল্লা (৩২) চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের মৌলভীরচর কারিকরডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কোমর মোল্লার ছেলে। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার দোহার উপজেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন।
এদিকে ডাকাত দলের ধাওয়া খেয়ে স্পিডবোটচালক সঞ্জিত খালাসী (৩৯) কাশবনে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসনে নিয়ে আসে। সঞ্জিত সদর ইউনিয়নের খালাসীডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে আটজন গরু ব্যবসায়ীকে চরভদ্রাসনের গোপালপুর ঘাট থেকে দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পৌঁছে দেন সঞ্জিত খালাসী। ওই ব্যবসায়ীরা ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা গরুর হাট থেকে ব্যবসা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁদের নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোটে একমাত্র যাত্রী ছিলেন লিটন মোল্লা।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে স্পিডবোটটি ঢাকা জেলার সীমান্ত পেরিয়ে চরভদ্রাসন এলাকায় ঢুকলে স্থানীয় ফারুক মোল্লার চরের কাছে একটি ডাবল ইঞ্জিনচালিত স্পিডবোট নিয়ে একদল ডাকাত ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তারা স্পিডবোটটির গতি রোধের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালক সঞ্জিত বোটটি চরে ভিড়িয়ে কাশবনের মধ্যে পালিয়ে যান।
এরপর ডাকাতেরা বোটের একমাত্র যাত্রী লিটন মোল্লাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে স্পিডবোটের ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা লিটনের বাঁ হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। পরে স্থানীয় জেলেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
চরাঞ্চলের প্রকৃতি ও জীবনযাপন নিয়ে কাজ করা সংস্কৃতিকর্মী আবদুস সবুর মোল্লা বলেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে এ নৌপথে এমন ডাকাতির ঘটনা শোনা যায়নি। ঢাকার সঙ্গে চরাঞ্চলের মানুষের সহজ যোগাযোগের এই পথ যদি অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তাহলে চরভদ্রাসনসহ আশপাশের চরাঞ্চলবাসীর জন্য তা উদ্বেগের। তিনি ডাকাতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্পিডবোটচালক সঞ্জিত খালাসীকে উদ্ধার করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। জড়িত সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।