জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেভাবে ১৬ বছর বয়স থেকে তরুণদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়, বাংলাদেশেও ১১–দলীয় ঐক্যজোট নির্বাচিত হলে ১৬ বছর বয়স থেকে তরুণদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে। আমরা রাষ্ট্র বিনির্মাণের তরুণদের অংশগ্রহণ দেখতে চাই। এ ছাড়া আমরা তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই।’
মঙ্গলবার রাত সোয়া নয়টার দিকে কুমিল্লা নগরের টাউন হল মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী পদযাত্রায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এ কথা বলেন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনী পদযাত্রার এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি। ‘সুশাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ এই নির্বাচনী পথযাত্রার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনার সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা জেনেছি বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতার কথা বলে, বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষকে ভুলভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা বলতে চাই, একজন মানুষকে সারা জীবন কিছু কিছু টাকা দিয়ে অসহায় এবং পরনির্ভরশীল করে রাখার চাইতে তাকে কর্মসংস্থান কিংবা উদ্যোক্তা করে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাকে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই। ১১-দলীয় ঐক্যজোট সেই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চায়।’
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা’ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপি মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, গত দুই দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির দুজন প্রার্থীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল (সোমবার) ঢাকা-১৮ আসনের আরিফুল ইসলাম আদীব এবং আজকে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম চলাকালে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উপস্থিত ১১-দলীয় জোটের নেতা–কর্মীদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়ে তাঁদেরকে আহত করা হয়েছে। যারা এ ধরনের জঘন্য কাজে জড়িত, তাদেরকে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এ দেশে ভোটাধিকার হরণের পরিণত কী হয়েছে। এ দেশে যারা আগে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে, প্রার্থীদের ওপর হামলা করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে—তাদেরকে কিন্তু দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আপনারা যদি তাদের পরিণতি বরণ করতে না চান, তাহলে অবশ্যই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
এর আগে এদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরের রেসকোর্স এলাকা থেকে ক্যারাভানে করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন আসিফ মাহমুদ। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনী পদযাত্রা নামের সমাবেশ।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের কাছে আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা প্রার্থীর ব্যালটে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, শাপলা কলিতে ভোট দেন, রিকশায় ভোট দেন বা ধানের শীষে ভোট সমস্যা নেই। কিন্তু গণভোট যেন আপনাদের সিল শুধু ‘হ্যাঁ’ ভোটেই থাকে।
বক্তব্যের শেষে আসিফ মাহমুদ জামায়াতের দুই প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে তাঁদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৬ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা-৮ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল আলম (হেলাল), এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাহবুবর রহমান, এবি পার্টির কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি মোহাম্মদ সোলাইমান, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য হাফসা জাহান, সালাউদ্দিন জামিল প্রমুখ।