সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান দলের নেতা আনিসুল হককে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বুধবার রাতে তাহিরপুরের বাগলী এলাকায়
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান দলের নেতা আনিসুল হককে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বুধবার রাতে তাহিরপুরের বাগলী এলাকায়

সুনামগঞ্জ–১ আসন

বিএনপির কামরুলের পাশে আনিসুল, জামায়াত জোটে টানাপোড়েন

সুনামগঞ্জ–১ আসনে (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে বিএনপির দলীয় প্রার্থিতা নিয়ে নাটকীয়তার অবসান হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলের প্রার্থী হতে পারেননি আনিসুল হক। তবে সব মান–অভিমান ভুলে দলের প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন একসঙ্গে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্যজোটে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা দূর হয়নি। জোটের প্রার্থী নিয়ে এখনো টানাপোড়েন চলছে।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। তাঁরা হলেন বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াতের ইসলামীর তোফায়েল আহমদ খান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার।

এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে শুরু থেকেই নাটকীয়তা ছিল। প্রথমে মনোনয়ন পান আনিসুল হক। কিন্তু শেষমেশ ধানের শীষ পেলেন কামরুজ্জামান। এখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে একপর্যায়ে জোটের প্রার্থী নিয়ে একই নাটকীয়তা দেখা দেয়। সেটি এখনো চলছে।

নিজেকে জোটের প্রার্থী দাবি করে নেজামে ইসলাম পার্টির মো. মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার বলেন, ‘এখানে জোটের একমাত্র প্রার্থী আমি। আর কেউ নন।’ অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খান বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আমরা ছিলাম, আমরা মাঠে থাকব।’

এখানে প্রথমে আলোচনা ছিল জামায়াত জোট থেকে প্রার্থী হতে পারেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। কিন্তু একপর্যায়ে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যায়। মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। ইসলামী আন্দোলনের চলে যাওয়ায় জামায়াতের নেতা–কর্মীরা নিশ্চিত হন জোটের প্রার্থী হিসেবে দলের জেলা আমির তোফায়েল আহমদ খানকে নিয়েই তাঁরা নির্বাচন করছেন। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন সকালে খবর আসে আসনটি জোটের শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে জোটের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও সিলেট মহানগরের সভাপতি মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার। ওই খবর জামায়াতের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা জেনে বিকেলে জেলা শহরে এসে দলের জেলা কার্যালয়ে সমবেত হন। একপর্যায়ে প্রার্থী তোফায়েল আহমদসহ আরও কয়েকজন নেতাকে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ কারণে তোফায়েল আহমদ খান প্রস্তুতি নেওয়ার পরও তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি।

গতকাল বুধবার তোফায়েল আহমদ খান জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, কেন্দ্র থেকে মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এ আসনটি জোটের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশনাতেই তিনি মাঠে প্রচারণায় আছেন এবং থাকবেন। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে, বিভ্রান্তি ছাড়াচ্ছে। তারা মাঠ ছাড়বে না।

মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি (তোফায়েল আহমদ) একজন আলেম মানুষ। উনি একের পর এক যে নাটক করছেন, সেটি আমরা প্রত্যাশা করি না। উনি কীভাবে মাঠে আছেন, আমি জানি না। জোটের কেন্দ্র থেকে যদি কোনো বিবৃতি না আসে, তাহলে অন্য কারও বক্তব্য এখানে গ্রহণযোগ নয়।’

সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খান

এখানে বিএনপি প্রথমে দলীয় মনোনয়ন দেয় দলের জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হককে। কিন্তু আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের জেলা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল ও তাঁর কর্মী–সমর্থকেরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তোলেন। মাঠে টানা কর্মসূচি চলে তাঁদের। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিকে গত ২৮ ডিসেম্বর জানা যায়, কামরুলও দলীয় মনোনয়নের জন্য কেন্দ্র থেকে চিঠি পেয়েছেন। এরপর আনিসুল ও কামরুল দুজনই দলের চিঠিসহ মনোনয়নপত্র জমা দেন। এখন কে পাবেন ধানের শীষ, এ নিয়ে মাঠে শুরু হয় ব্যাপক জল্পনাকল্পনা। প্রতীক বরাদ্দের আগের রাতে খবর আসে কামরুলের হাতেই ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়েছে দল। আনিসুল হকের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে নেমে আসে হতাশা।

দুদিন পরে কামরুল ছুটে যান আনিসুল হকের বাড়িতে। সেখানে সমাবেশ হয়। আনিসুল হক ঘোষণা দেন, যেহেতু দলের চেয়ারম্যান কামরুলকে ধানের শীষ দিয়েছেন, তিনি সবাইকে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। আনিসুল হক বলেন, ‘আমি দলের দুর্দিনে নেতা–কর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলাম। মাঠ ছাড়িনি কখনো। বিপদগ্রস্ত কর্মীদের আগলে রেখেছি। নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়িয়েছি। দলের সিদ্ধান্তে সবাইকে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে থাকব।’

কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘আনিসুল হক আমার বড় ভাই, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। দলের সবাই এখানে ঐক্যবদ্ধ। সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা এখানে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করব।’