
নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেনকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির ফটকে এলাকার অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিকদের পেশাগত কাজেও বাধা দেওয়া হয়।
মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া ও তাঁর সমর্থকেরা মানববন্ধনে বাধা দেন। এর আগে বিদ্যালয় মাঠে কর্মসূচি পালন করতে গেলে তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের গালাগালি করে বের করে দেন। এ সময় কয়েকজন অংশগ্রহণকারীকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে রায়পুরা থানার আমিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে বিদ্যালয় ফটকে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নূর শাখাওয়াত হোসেন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পরপরই ‘দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ’–এর অভিযোগ এনে তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও তিনি যোগদান করতে পারছেন না।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মানববন্ধন চলাকালে বাদল মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা ব্যানার ছিনিয়ে নেন, হামলা চালান, কয়েকজনকে মারধর করেন। ওই সময় সাংবাদিকেরা ছবি-ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাহমিনা রেজা (মৌসুমী) বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল-স্লোগান করিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরজাহান খানম (ইতি) বলেন, আদালত অধ্যক্ষকে স্বপদে বহাল রাখার রায় দিয়েছেন। তাঁর দায়িত্বকালে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের হার প্রায় ৯৯ শতাংশ ছিল, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়ার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেন এই প্রতিবেদক। ঘটনার পর থেকেই মুঠোফোনটি বন্ধ রাখায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
জানতে চাইলে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।