সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের পক্ষে ভোটের প্রচারণা চালান সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ সোমবার সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকায়
সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের পক্ষে ভোটের প্রচারণা চালান সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ সোমবার সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকায়

সিলেট-১ আসনে বিএনপির মুক্তাদীরের পক্ষে ভোট চাইলেন সাবেক মেয়র আরিফুল

সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের পক্ষে ভোট চাইলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তাঁর সঙ্গে সাবেক কয়েকজন কাউন্সিলর ছিলেন।

আজ সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নগরের আম্বরখানা এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। পরে তিনি সাবেক কাউন্সিলরদের নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী নগরের দরগাগেট, চৌহাট্টাসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ চালান। এ সময় খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বিএনপি জানিয়েছে, আবদুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তাঁদের কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুটি বলয়ে বিভক্ত। দুজনেই সিলেট-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে বিএনপি এই আসনে মুক্তাদীরকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়। অন্যদিকে আরিফুলকে বিএনপি সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে প্রার্থী করেছে।

মহানগর বিএনপির দুই নেতা জানান, আরিফুল হক সিটি করপোরেশনের দুবারের মেয়র ও একবারের কাউন্সিলর ছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নগরে ১৫ বছর মানুষের সেবা করার পাশাপাশি তিনি মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। নগরকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে আরিফুলের সঙ্গে নগরবাসীর সুসম্পর্ক রয়েছে। এ অবস্থায় মুক্তাদীরের পক্ষে আরিফুল প্রচারণা না চালালে একটা ভুল বার্তা ভোটারদের কাছে যেত। এটি কাটাতেই মূলত আরিফুলের নেতৃত্বে ঘটা করে গণসংযোগ চালানো হয়।

লিফলেট বিতরণের সময় খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরী একে অপরের হাত ধরে উঁচিয়ে মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন। এ সময় বিএনপির নানা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গণসংযোগকালে আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় আরিফুল হক বলেন, ‘বিএনপির একজন সদস্য হিসেবে এই নগরে আমি মানুষের সেবা করেছি। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জনগণ আমাকে দুই-দুইবার মেয়র নির্বাচিত করেছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি এবং কাউন্সিলররা এখানে ১৫টি বছর সেবা দিয়েছি। দেশে বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবার সিলেটের উন্নয়ন হয়েছে। এর আগে দৃশ্যমান উন্নয়ন কোনো সরকারই দেখাতে পারবে না। আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে এক ও অভিন্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, সিলেটবাসী স্রোতের উল্টো নয়। এলাকার উন্নয়নের জন্য খন্দকার মুক্তাদীরকে সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন। ধর্মবর্ণ–নির্বিশেষে সবাই যেন ভোট দিয়ে ধানের শীষকে নির্বাচিত করেন, এ অনুরোধ থাকবে।’

খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আরিফুল হক এই নগরে দুই-দুইবার মেয়র ছিলেন। বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে মেয়র ছিলেন। সেই নির্বাচনগুলোয় আমরা বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করেছি। তিনি (আরিফুল) সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী। তাঁর সেই কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও এখানে সময় দিয়েছেন, আমাদের সাবেক কাউন্সিলররাও রাত-দিন পরিশ্রম করছেন। তাঁর (আরিফুল) এই আজকের প্রচারণা আমাদের সামগ্রিক প্রচারণার মধ্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। সিলেট-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর যোগ দেওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য এক বিরাট উৎসাহের ব্যাপার।’