শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন রুবিনার মা জান্নাতুল ফেরদৌস। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার দুবলাগাড়ি গ্রামে
শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন রুবিনার মা জান্নাতুল ফেরদৌস। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার দুবলাগাড়ি গ্রামে

সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী রুবিনার গাইবান্ধার বাড়িতে মাতম

‘মেয়েটাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। সে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। বেড়াতে গিয়ে মেয়েটা চলে গেল। আমরা এখন কাকে নিয়ে বাচব?’

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির আঙিনায় বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাঙামাটির সাজেকে চান্দের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মোছা. রুবিনা আফসানার (২৩) মা জান্নাতুল ফেরদৌস। এরপর তিনি নির্বাক তাকিয়ে থাকেন। আর কোনো কথা বলেন না। এ সময় তাঁর পাশে বসে কাঁদছিলেন রুবিনার সহপাঠী রনজিত রায়।

গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নে দুবলাগাড়ি গ্রাম। রুবিনার মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রুবিনার ছোট বোন সিদরাতুল মুনতাহা আহাজারি করছিলেন। পাশে অশ্রুসিক্ত আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। রুবিনার বাবা আবদুর রহমান দাফনের কাজে ব্যস্ত থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগড়াছড়ি থেকে রুবিনার মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি গাইবান্ধায় পৌঁছায়। বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে হেলিকপ্টারটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হাঁসবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখানে রুবিনার মরদেহ দেখতে মানুষ ভিড় জমায়। পরে হেলিকপ্টার থেকে মরদেহ নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর গ্রামের বাড়ি পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের দুবলাগাড়ি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ এশা ওই গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।