নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
৩ ফেব্রুয়ারি রাতে এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান বরিশালের সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদ এ নোটিশ জারি করেন। গতকাল বুধবার সরকারিভাবে দাপ্তরিক কর্মসূচি বন্ধ থাকায় আজ বৃহস্পতিবার অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতিনিধিকে এ নোটিশের অনুলিপি সরবরাহ করা হয়েছে।
এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক মো. আবু নাঈম নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি রাত নয়টার দিকে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের নির্দেশে গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের কাজির স্ট্যান্ড ও গাজির স্ট্যান্ডে নির্মিত গণ অধিকার পরিষদের (ট্রাক প্রতীক) দুটি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেন হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকেরা। এ সময় উপস্থিত ট্রাক প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ জানুয়ারি গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের তাফালবাড়িয়া এলাকায় হাসান মামুনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান একটি সভায় ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে জড়িয়ে বানোয়াট, মানহানিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দেন। ওই সভায় হাসান মামুন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া হাসান মামুন ও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা প্রতিনিয়ত নির্বাচনী প্রচারে আচরণবিধিমালা লঙ্ঘন করে আসছেন। এ ঘটনায় হাসান মামুনের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে তাঁকে সশরীর উপস্থিত হয়ে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসান মামুনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক মো. জাহিদুল হোসেন বলেন, নোটিশের অনুলিপি আজ পেয়ে অভিযোগের বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি দাবি করেন, আমখোলায় ট্রাক প্রতীকের দুটি অফিস ভাঙচুরের ঘটনাটি সাজানো ছিল, যা পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন।