গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ইসলাম গার্মেন্টস। গতকাল মঙ্গলবার কারখানার সামনে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন
গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ইসলাম গার্মেন্টস। গতকাল মঙ্গলবার কারখানার সামনে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ইসলাম গার্মেন্টস

গাজীপুর নগরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেডে (ইউনিট-২) শ্রমিক অসন্তোষের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুন শ্রমিকেরা বেআইনি ধর্মঘট করে কাজ বন্ধ করে দেন এবং কারখানার পরিবেশ অস্থিতিশীল করে কারখানা ত্যাগ করেন। পরদিন ২৯ জুন শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা নিশ্চিত করলেও কাজে যোগ না দিয়ে প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। কর্তৃপক্ষ কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তাঁরা কাজ না করে কারখানা ত্যাগ করেন। ৩০ জুনও শ্রমিকেরা হাজিরা নিশ্চিত করে কাজে যোগ না দিয়ে বসে থাকেন। বারবার অনুরোধের পর তাঁরা কিছু সময় কাজ করলেও পরে আবার কাজ বন্ধ করে দেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শ্রমিকদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবৈধ ধর্মঘটের শামিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ অবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬–এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২) বন্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী সময়ে কারখানা খোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।

তবে শ্রমিকদের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁরা জানান, গত ২৭ জুন রুবিনা বেগম (৫০) নামের এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে প্রথমে কারখানার মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কোনাবাড়ীর একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে রুবিনার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। সঠিক তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ দাবিতে ২৭ জুন থেকেই শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

নিহত রুবিনা বেগম সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের সুমার আলী সরকারের মেয়ে। তিনি জরুন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ইসলাম গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেইন বলেন, ‘একজন শ্রমিক মৃত্যুর অজুহাতে অসন্তোষ শুরু হয়। শ্রমিকদের শান্ত রাখতে ব্যর্থ হয়ে এবং কারখানার ভাঙচুর রক্ষার্থে বন্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা কারখানার আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছি।’