বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ আগামী ৫ নভেম্বর। এ জন্য এখন দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বরিশাল নগরে প্রায় প্রতিদিন প্রস্তুতি সভা করছেন। বিভাগের ছয় জেলায় ও উপজেলায়ও তাঁরা প্রস্তুতি সভায় যোগ দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর বরিশালে বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই সমাবেশকে ঘিরে চাঙা হয়ে উঠেছেন। সমাবেশের প্রস্তুতি, স্থান নির্ধারণসহ নানা বিষয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খানের সঙ্গে।

প্রথম আলো: বরিশালে সমাবেশ আগামী ৫ নভেম্বর। সমাবেশের স্থান কী নির্ধারণ করেছেন?
মনিরুজ্জামান খান: আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি বেলর্সস পার্কে (বঙ্গবন্ধু উদ্যান) এই সমাবেশ হবে। এ জন্য আমরা প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে আজ-কালের মধ্যে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করব।
প্রথম আলো: সমাবেশ সফল করার জন্য আপনাদের প্রস্তুতি কেমন? আপনাদের পছন্দের স্থানে সমাবেশের অনুমতি পাবেন বলে মনে করছেন?
মনিরুজ্জামান খান: আমাদের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। আমরা প্রতিদিনই নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করছি। কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রস্তুতি সভা করছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও প্রস্তুতি সভা চলছে। সমাবেশকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে এ সমাবেশে। সেটা আমরা মানুষের আগ্রহ দেখে টের পাচ্ছি। সমাবেশে যে পরিমাণ লোকসমাগম হবে, তাতে বেলর্স পার্ক ছাড়া অন্য কোথাও সংকুলান হবে না। আমরা আশা করছি, এটা হবে বরিশাল বিভাগের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। সব দিক বিবেচনা করে প্রশাসন অবশ্যই আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সমাবেশের অনুমতি দেবে বলে আমরা আশা করছি।
প্রথম আলো: চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং সর্বশেষ খুলনায় সমাবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আপনারা। এখানেও কি সে রকম বাধা আসার আশঙ্কা আছে আপনাদের?
মনিরুজ্জামান খান: বাধা দেওয়ার চেষ্টা তো করবেই। তবে আমরা কোনো বাধা মানব না। এটাই শেষ কথা। কারণ চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনায় লঞ্চ, বাস, ট্রেন, ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন; এমনকি খেয়া নৌকা পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছিল। অস্ত্রধারী ক্যাডারদের দিয়ে মহড়া, নেতা-কর্মীদের মারধর, টহল চৌকি বসিয়ে বাধা দেওয়ার মতো ইতিহাসে বিরল ঘটনার অবতারণা আমরা দেখেছি। কিন্তু তাতে মানুষকে ফেরানো যায়নি। যে যেভাবে পেরেছেন, সেইভাবে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সরকারের দেউলিয়াত্বেরই প্রমাণ মিলেছে। তিন বিভাগে যে জনসমাগম হয়েছে, তার চেয়ে বেশি জনসমাগম এখানে হবে। কারণ, বরিশালের মানুষ এমনিতেই সংগ্রামী।
প্রথম আলো: মহানগর বিএনপিতে বিভেদ চলছে। সাবেক সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার পদ থেকে বাদ পড়ার পর দলে ক্ষোভ, অনৈক্য চলছে। এতে সমাবেশে কোনো প্রভাব পড়তে পারে?
মনিরুজ্জামান খান: এতে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং অবৈধ সরকারের পতনই হলো আমাদের এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশ এখন ঐক্যবদ্ধ। সেখানে দলের ক্ষুদ্র স্বার্থের কথা ভাবার সময় কোথায়? এখন আর কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। কেউ বাদ থাকবেন না। আমরা সবাইকে নিয়েই দল করব, দাবি আদায় করব। এটা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ। তা ছাড়া মজিবর রহমান সরোয়ার বর্তমানে বরিশালে অবস্থান করছেন। সমাবেশের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিয়েছেন। তিনিও সমাবেশ সফল করার জন্য কাজ করছেন।