পদ্মা নদীতে গরুবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ গরু ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীর (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। আজ বুধবার বিকেলে জাজিরার কুন্ডেরচর এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে রাত আটটার দিকে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আইয়ুব আলীর মরদেহ শনাক্ত করেন। আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহাজিগঞ্জ এলাকার আবদুল মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গরু ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরভদ্রাসন থেকে একটি ট্রলারে ৩০টি গরু নিয়ে বিক্রির জন্য ঢাকায় যাচ্ছিলেন আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী। গত সোমবার দুপুরে পদ্মা সেতু এলাকা অতিক্রম করার সময় সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের কাছে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। ৩০টি গরু ও ২০ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১৯ জন যাত্রী তীরে উঠতে পারলেও আইয়ুব আলী তলিয়ে যান। গত দুই দিনে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
আজ বিকেলে জাজিরার কুন্ডেরচর এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে নড়িয়ার সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে আইয়ুব আলীর স্বজনেরা কুন্ডেরচর ছুটে আসেন। রাত আটটার দিকে আইয়ুবের ছোট ভাই সোহেল মিয়া তাঁর মরদেহ শনাক্ত করেন।
সোহেল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাই গ্রামের হাট থেকে গরু কিনে ঢাকার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতেন। সোমবার ট্রলারে গরু নিয়ে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলেন। পথে পদ্মা সেতুর কাছে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা অন্য যাত্রীরা উঠে এলেও ভাই নদীতে হারিয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে, তাই মামলা করতে চাই না। ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
নড়িয়ার সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুল জলিল প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা নদীতে মরদেহ ভাসার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত ব্যক্তি পদ্মা নদীতে তলিয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে স্বজনেরা আবেদন করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সম্মতি পেলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।