সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

সৌদি আরবে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তাঁরা হলেন, উপজেলার উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তাঁর ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল সরকার। এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের শ্যামল উদ্দিনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।

বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। নওগাঁ জেলা প্রশাসনের পক্ষে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।

মরদেহ গ্রহণ করার পর ইউএনও মনিরুজ্জামান তাঁর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি লেখেন, ‘সৌদি আরবের সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত আত্রাই উপজেলার সাতজন প্রবাসীর লাশ ইতোমধ্যে ঢাকা এসে পৌছেছে। আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে নিহতদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে নিজ নিজ গ্রামে মরদেহগুলো দাফন করা হবে।’

রাত ৯টার দিকে ইউএনও মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিমানবন্দরে লাশগুলো গ্রহণ করা হয়। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ছাড়াও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে একজন করে স্বজন উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ গ্রহণ করার পর সেগুলোকে গাড়িতে করে বাড়ির পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর বাকি ছয় বাসিন্দার পরিচয় শনাক্ত ও তাঁদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহগুলো দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।