
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আজ মঙ্গলবার সকালে শেষ হয়েছে। প্রচারণা শেষ হওয়ার আগেই চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। গত সোমবারের মধ্যেই সব আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপার। এর আগে জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণও পাঠানো হয়।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য উপকরণ আগামীকাল বুধবার অর্থাৎ ভোটের আগের দিন সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলোয় পাঠানো হবে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী উপকরণ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এর এক দিন পর অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
চট্টগ্রামে ১৬টি আসন রয়েছে। এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন তিনজন। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন নগর ও নগরসংলগ্ন ৫টি আসনের; জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলার ১০টি আসনের এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী নগরের একটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন।
এদিকে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ গত রোববার শেষ হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টদের জন্য পৃথক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে ভোট গ্রহণের নিয়ম, ব্যালট ব্যবস্থাপনা, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রেরণের পদ্ধতির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী উপকরণ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রামে ১৬টি আসনে এবার মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১৫ জন প্রার্থী। চট্টগ্রামে মোট ভোটার রয়েছেন ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। ভোটারদের মধ্যে হিজড়া আছেন ৭০ জন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন।
চট্টগ্রামে এবার ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থাকবেন। আর ভোটকক্ষ আছে ১২ হাজার ৬০১টি। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ২৩টি। অর্থাৎ দুই বছর পর হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে ৫৮টি ভোটকেন্দ্র কমেছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভোটকেন্দ্রগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ, অতি গুরুত্বপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোয় নেওয়া হবে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। এ ছাড়া নির্বাচনে সেনাবাহিনীও মোতায়েন থাকবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু ভোটের দিন নয়, ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক থাকবে।