আইনজীবী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামি। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে
আইনজীবী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামি। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে

বাগেরহাটে আইনজীবী হত্যা: চারজন গ্রেপ্তার, নেতৃত্বে ছিলেন নিহতের পূর্বপরিচিত—দাবি পুলিশের

বাগেরহাটে আইনজীবী নিজাম উদ্দিন (৪২) হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

ওই ঘটনার বিষয়ে জানাতে আজ সোমবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে জানানো হয়, রোববার রাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

এর আগে গত শনিবার নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী স্বপ্না বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের পিসি ডেমা গ্রামের শেখ মুরাদ (৪১), তাঁর ছোট ভাই আবু তাহের দীপ ওরফে দিপু (২৯), কাড়াপাড়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান (৪৮) ও শিপন শেখ (২৮)।

নিহত নিজাম উদ্দিন বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ছিলেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল রোববার রাতে সদর উপজেলার পিসি ডেমা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও সদর থানা-পুলিশ অভিযানে নামে। হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন শেখ মুরাদ। তিনি নিহত আইনজীবীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত একসঙ্গে সময় কাটাতেন। হত্যার দিনও রাত ১০টা থেকে মুরাদ ওই আইনজীবীর সঙ্গে ছিলেন। পরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তিনি ও তাঁর সহযোগীদের মোটরসাইকেল ও হেঁটে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই আইনজীবীর মতবিরোধের বিষয়টি জানা গেছে। তবে সেই বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আগে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র ও তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির দাবি, নিহত আইনজীবী ও প্রধান সন্দেহভাজনের মধ্যে মাদক ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তিন মাস আগে আইনজীবী নিজাম উদ্দিন মাদকসহ পুলিশের কাছে আটক হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।