শরীয়তপুরের জাজিরায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসে জামায়াতের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেলে উপজেলা সদরে মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে
শরীয়তপুরের জাজিরায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসে জামায়াতের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেলে উপজেলা সদরে মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে

শরীয়তপুরে জামায়াতের কর্মসূচিতে হামলা, অভিযোগ বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে

শরীয়তপুরের জাজিরায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জামায়াতের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়। আজ বুধবার বিকেলে উপজেলা সদরে মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ বিকেলে উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে  জামায়াতে ইসলামী। একই সময়ে পাশে টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকায় পৃথক কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা।

জামায়াতের নেতাদের অভিযোগ, গণমিছিল শুরুর আগে নেতা–কর্মীরা মডেল মসজিদের সামনে জড়ো হন। তখন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতা–কর্মী সেখানে গিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। এতে জামায়াতের কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হন।

এ সময় হামলার ভিডিও ধারণ করছিলেন বিজয় টিভির জাজিরা উপজেলা প্রতিনিধি জুয়েল মিয়া। কয়েকজন হামলাকারী তাঁর ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

শরীয়তপুর জেলা জামায়াতের আমির মুহা. আব্দুর রব হাসেমী বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তাঁরা কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। বিএনপিও তাদের নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করছিল। তবে গণমিছিল শুরুর আগে বিএনপির কিছু নেতা–কর্মী এসে তাঁদের ওপর হামলা চালান। তিনি এ ঘটনার জন্য পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলনকে দায়ী করে জানান মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

হামলা ও মারধরে আহত সাংবাদিক জুয়েল মিয়া বলেন, তিনি হামলার ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাজিরা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন। তিনি বলেন, তিনি মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন এবং জামায়াতের কর্মসূচিতে কোনো হামলা চালাননি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। কারা হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মেদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। একজন সাংবাদিককে মারধরের বিষয়টিও তাঁরা জেনেছেন। পুলিশ হাসপাতালে গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।