ঠাকুরগাঁও–২ আসনের (বালিয়াডাঙ্গি, হরিপুর উপজেলা ও রানীশংকৈল উপজেলার একাংশ) সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রাজনীতিবিদ দবিরুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মো. কামরুজ্জামান। আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগামীকাল শুক্রবার বালিয়াডাঙ্গীর পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। তবে জানাজার সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
মৃত্যুকালে দবিরুল ইসলামের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তিনি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে ১৫-দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। একই বছর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দবিরুল। তবে ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দবিরুলের বদলে তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে মাজহারুল ইসলাম জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চাঁদা দাবি, জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলায় গত বছরের ২ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৫ মে দবিরুল ইসলামকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান।