
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ক্যাম্পাসে দেয়াললিখন ও ব্যানার পোড়ানোকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রকাশ্য ও গুপ্ত রাজনীতির বিরোধিতা করে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে।
রাত দেড়টার দিকে মিছিলটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা দলের পক্ষে স্লোগান দিলে মিছিলে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পাল্টাপাল্টি স্লোগানে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত দুইটার দিকে মিছিলটি সেখান থেকে সরে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রুয়েটে আগে থেকেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে বিভিন্ন সংগঠনের আড়ালে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ আছে।
২৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার পর রুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে দেয়াললিখন করা হয়। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকেলে কিছু শিক্ষার্থী প্রকাশ্য ও গুপ্ত—উভয় ধরনের রাজনীতির বিরোধিতা করে দেয়াললিখন করেন এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একটি ব্যানার টাঙান। পরে ব্যানারটি খুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
এদিকে ‘রুয়েট জাতীয়তাবাদী স্পন্দন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে ঘটনাটি প্রচারিত হলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে জিয়া হলের সামনে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি প্রকাশ্যে নেই; তবে অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন নামে সংগঠন করে রাজনীতি চলছে। ছাত্রদল এখানে প্রকাশ্যে কমিটি দিতে চায়, কিন্তু শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ কোনো ধরনের রাজনীতি চায় না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে যান।
পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখানে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। ৫ আগস্টের পর কেউ কমিটি দিতে পারেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রমের খবর আসছে, যা উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে প্রকাশ্য ও গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে আজ সোমবার দুপুরে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, এ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ আছে।