
৮৫ বছর বয়সে মেয়ের সঙ্গে হুইলচেয়ারে যশোর–৩ (সদর) আসনের মুনসেফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন জরিনা বেগম। ভোট দেওয়ার পর জরিনা বেগম বলেন, ‘বহু বছর আগে ভোট দিছি। এবার ভোট দিয়ে ভালো লাগছে।’
জরিনা বেগমকে ভোট দিতে নিয়ে আসেন তাঁর মেয়ে রিজিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার মা ভোট দিতে আসতে চেয়েছিলেন। তাই তাঁকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছি। আমরা প্রার্থীর কাছে তেমন কিছুই চাই না। আমরা যাতে ভালো থাকি, সে রকম ব্যবস্থা করলেই আমরা খুশি।’
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন জরিনা বেগম ও রিজিয়া বেগম। যশোরে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে ভোট গ্রহণ চলছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নারী–পুরুষদের ভোট দিতে দেখা যায়। দীর্ঘ লাইন হলেও ভোটারদের মধ্যে বিরক্তি দেখা যায়নি। সবাই আনন্দের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
বেলা ১১টার পর হুইলচেয়ারে ভোট দিতে আসেন মুক্তার শেখ নামের আরেক ব্যক্তি। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পরে ভোট দিয়ে খুব আনন্দ লাগছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের পর নতুন সরকার আমাদের কতটা ভালো রাখতে পারে।’
মুক্তারের ছেলে ইব্রাহিম শেখ বলেন, ‘ভোট দেওয়ার জন্য আব্বা খুব জোরাজুরি করছিলেন। ভোটকেন্দ্রে আসার পরে অনেকেই বলেছে, এত কষ্ট করে ভোট দেওয়ার দরকার নাই। কিন্তু আব্বা কারও কথা শোনেননি। যত কষ্টই হোক, তিনি ভোট দিয়েই বাড়ি যাবেন বলে সবাইকে জানিয়ে দেন।’
মুনসেফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এই কেন্দ্রের মোট ভোটার ৩ হাজার ৯৬৩। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ৮৯১ জন ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটের ২৩ শতাংশ। ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি। মনে হচ্ছে, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
শুধু এই কেন্দ্রে নয়, শহরের আবদুল সামাদ মেমোরিয়াল একাডেমি, যশোর জিলা স্কুল ও বারান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ছয়টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি। উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে মানুষ ভোট দিতে আসছেন।