শাস্ত্রীয় সংগীতের মহাসাধক সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের ভূমি দখলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ সমাবেশ। শুক্রবার সঙ্গীতাঙ্গনের সামনে
শাস্ত্রীয় সংগীতের মহাসাধক সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের ভূমি দখলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ সমাবেশ। শুক্রবার সঙ্গীতাঙ্গনের সামনে

সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের জমি দখলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন

শাস্ত্রীয় সংগীতের মহাসাধক সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’–এর ভূমি দখলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মী মঞ্চের ব্যানারে সংগীতাঙ্গনের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি থেকে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কালচারাল কমপ্লেক্স প্রকল্পের চলমান প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মী মঞ্চের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মী মঞ্চের উদ্যোক্তা ও অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি আবদুন নূরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্য মতিলাল বণিক, জেলা উদীচীর সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোরায়রাহ, সোনালী সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির। এ ছাড়া জেলা শহরে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী–সংগঠক ছাড়াও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষক ও অভিভাবকেরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, শুধু এশিয়া উপমহাদেশখ্যাতই নয়, বিশ্ববরেণ্য সংগীতাচার্য ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা গোটা বাংলাদেশর গর্ব। প্রতিক্রিয়াশীল চক্র ২০১৬ ও ২০২১ সালে একাধিকবার অগ্নিসংযোগ করে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। জেলা শহরের পুরোনো জেলা রোড এলাকায় সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ তাঁর নিজের বাড়িতে নিজের নামে সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি জাল দলিলের মাধ্যমে সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের ভূমি দখলের অপচেষ্টার মধ্য দিয়ে একটি ভূমি দখল চক্রের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনের জায়গা ভূমিখেকোদের হাত থেকে রক্ষার জন্য দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সংস্কৃতিকর্মী মঞ্চের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মানববন্ধনে ভূমিখেকো চক্রের এ ধরনের ঘৃণ্য অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি চলমান ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কালচারাল কমপ্লেক্স প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশের পর একই দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা শহরের হালদারপাড়ার খুরশেদ ‍মিয়া খাঁ এবং আলাউদ্দিন খাঁর বড় মেয়ে সরিজা বেগমের ছেলে মিজানুর রহমান, মুজিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান ও সেলিম মিয়া একটি দানপত্র দলিলমূলে ২০২০ সালের ১০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিএস খতিয়ান সংশোধনের একটি মামলা করেন। আরজিতে তাঁদের দাবি, তাঁরা সংগীতাঙ্গনের ভেতরে ঘর নির্মাণ ও পুকুরে মাছ চাষ করে ৮ শতাংশ জায়গা ভোগদখলে আছেন। ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক যুগ্ম জেলা জজ কাজী কামরুল ইসলাম গত ২৫ মে এই মামলার রায় দেন। বিচারক বিনা খরচে ডিক্রি জারি করে বিএস জরিপ সংশোধনের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এর ফলে আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে আটটি কক্ষ ও একটি মিলনায়তন রয়েছে। এর মধ্যে একটি কক্ষে একটি জাদুঘর আছে। সংগীতাঙ্গনের ভেতরে কোনো পুকুরের দেখা মেলেনি। সেখানে কোনো পরিবারের বসবাসও চোখে পড়েনি। সংগীতাঙ্গনের সামনে আট শতাংশ জায়গার কোনো হদিসও নেই। এ বিষয়ে আলাউদ্দিন খাঁর কোনো স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পদাধিকারবলে সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবু সাঈদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁরা আইনিভাবে মোকাবেলা করবেন।