গাজীপুরে বাড়িতে লুট-খুনের ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে
গাজীপুরে বাড়িতে লুট-খুনের ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে

গাজীপুরে বাড়িতে লুট-খুন

শাশুড়িকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজান পুত্রবধূ

গাজীপুরে নৈশপ্রহরীর বাড়ি থেকে মালপত্র লুট ও খুনের ঘটনায় পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পিরুজালী এলাকায় আনিসুর রহমানের বাড়ি থেকে দুর্বৃত্তরা টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালপত্র লুট করে। এ সময় তাদের বাধা দেওয়ায় আনিসুর রহমানের স্ত্রী আসমা আক্তারকে (৫৫) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাঁদের পুত্রবধূ আরিফা আক্তারকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

পিরুজালী মধ্যপাড়া এলাকার আনিসুর রহমান স্থানীয় একটি কারখানায় এবং তাঁর ছেলে নাজমুল সাকিব পিরুজালী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর চাকরি করেন।
ওই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তার (২২), পিরুজালী গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. উজ্জ্বল (৪৬) ও নুরুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ বেগম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে নৈশপ্রহরী আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে নাজমুল সাকিব নিজ নিজ কর্মস্থলে যান। বাড়িতে ছিলেন আনিসুরের স্ত্রী আসমা আক্তার, পুত্রবধূ আরিফা আক্তার এবং চার বছর বয়সী এক নাতি। পরদিন সকালে নাজমুল সাকিব বাড়িতে ফিরে দেখেন, তাঁর স্ত্রীর হাত-পা ও মুখ ওড়না দিয়ে বাঁধা এবং তিনি খাটের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। অন্য ঘরে তিনি তাঁর মা আসমা আক্তারের নিথর দেহ দেখতে পান। ঘরের আসবাব এলোমেলো ছিল। সিন্দুক থেকে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন বলেন, ওই ঘটনায় প্রথমে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মো. উজ্জ্বল (৪৬) ও শাহনাজ বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, আনিসুর রহমানের ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার জন্য পুত্রবধূ আরিফা আক্তার পরিকল্পনা করেন। শাহনাজ বেগমের প্ররোচনায় তিনজন মিলে পরিকল্পনা অনুযায়ী শাশুড়ি আসমা আক্তারকে প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মুখ চেপে ধরে তাঁকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে চালিয়ে দিতে আরিফাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে অচেতন হওয়ার ভান করে পড়ে থাকতে বলা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, গতকাল বিকেলে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়। আসামি উজ্জ্বল ও আরিফা ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুট করা ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।