
মাদারীপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পৌর শহরের থানতলী এলাকায় প্রথম দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আজ সোমবার ভোররাতে একই স্থানে আবারও সংঘর্ষ হয়। এ সময় অন্তত অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে শহরের প্লানেট কমিউনিটি সেন্টারে পাকদী এলাকার শাহজাহানের ছেলে ইতালিপ্রবাসী মামুনের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে থানতলী এলাকার ফজল খাঁর ছেলে আকিব এবং পাকদী এলাকার দবির মুন্সির ছেলে মঈন মুন্সির মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিরা বিষয়টি মীমাংসা করেন। তবে ওই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যার পর থেকেই আকিব ও মঈন গ্রুপের লোকজন দেশি অস্ত্রে মহড়া দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুই পক্ষই নিজেদের আধিপত্য দেখাতে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে উভয় পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় তারা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সোমবার ভোররাতে আবারও সংঘর্ষ বাধে। পাকদী এলাকায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে অন্তত ৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণও ঘটায় তারা। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।