জরুরি বিভাগে চেয়ার দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটান এক ছাত্রদল নেতা
ছবি: ভিডিও থেকে

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে জুয়েল হোসেন নামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম ওরফে সাহেদের বিরুদ্ধে। গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে এভাবে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

আহত জুয়েল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। সাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণি ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পেটানো হচ্ছে। তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথিও মারা হচ্ছিল। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আহত জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

দলীয় নেতা–কর্মীদের ভাষ্য, মুঠোফোন কেনাবেচা নিয়ে বিকেলে শাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে মারামারি হয়। রাতে চিকিৎসা নিতে জুয়েল হাসপাতালে গেলে শাহেদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে সেখানে যান। হাসপাতালের সামনেই জুয়েলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মারধর থেকে বাঁচতে জুয়েল জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকলে শাহেদও সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর কক্ষের ভেতরে তাঁকে চেয়ার দিয়ে পেটানোসহ এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়।

এ বিষয়ে শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, শাহেদ দালাল বাজার কলেজ ছাত্রদলের ক্লাস কমিটির নেতা ছিলেন। এখন তাঁর কোনো পদপদবি নেই। তবে তিনি পৌর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল বলেন, হাসপাতালে হামলার ঘটনা দুঃখজনক। সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার চিত্র স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।