
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির কারণে জেল খেটেছেন। উনি জেল খেটেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ের করা মামলার কারণে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়োগ করেছিলেন খালেদা জিয়ার বানানো রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন।’
সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কাইমপুর ইউনিয়নের সিরাজুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আনিসুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালত পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। আপিল করায় উচ্চ আদালত সাজা বৃদ্ধি করে ১০ বছর করেছেন। করোনার সময়ে খালেদা জিয়া অসুস্থ হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায় আইন অনুযায়ী দুটি শর্তে সাজা স্থগিত রেখে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন। বিদেশ যেতে পারবেন না। বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে সুস্থ করেছেন।’
বিদেশ যাওয়ার চেয়ে উনি (খালেদা জিয়া) যদি দেশে চিকিৎসা পান, আর সেই চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হন, তাহলে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন কী বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উনি নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে গেছেন। তিনি সুস্থ আছেন। চিকিৎসা শেষে আল্লাহর রহমতে বাসায় ফিরে আসবেন। এ নিয়ে আন্দোলন করে কিছুই করতে পারবেন না। আন্দোলনে তিনি মুক্তি পাননি। তিনি মুক্তি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায়।’
কসবা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এইচ এস সারওয়ারের সভাপতিত্বে এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল কাউছার ভূঁইয়া, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান। বক্তৃতা করেন শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন, শিক্ষক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, আয়েশা আক্তার, গোলাম রব্বানী, নাছির আহাম্মদ, আসাদুজ্জামান, নাজির আহাম্মদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কসবা পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম হাক্কানী, কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মো. আজহারুল ইসলাম, মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া, কসবা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ছিদ্দিকা, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুল আজিজ, কসবা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. এমরান উদ্দিন, কসবা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. আফজাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মানিক প্রমুখ।