কাতারপ্রবাসী নজরুল ইসলাম (৩৩) ছুটি নিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছিলেন। আজ শুক্রবার তাঁর বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণের কথা ছিল। এর আগেই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের আড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নজরুল ইসলামের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার দক্ষিণ সাগরনাল এলাকায়। এ ঘটনায় জুড়ী থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম চার-পাঁচ বছর ধরে কাতারে কর্মরত ছিলেন। গত ২০ জানুয়ারি তিনি ছুটি নিয়ে দেশে ফেরেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। বাড়ির আঙিনায় আলাদা একটি কাঁচা ঘরে থাকতেন।
স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় ফুলতলা বাজার থেকে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে ঢোকেন নজরুল। সাহ্রির সময় তাঁকে ডাকতে গিয়ে স্বজনেরা কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। একপর্যায়ে বাঁশের বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখা যায়, ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলছেন তিনি। পরে স্বজনদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নজরুলের বড় ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, নজরুলের বিয়ের জন্য সম্প্রতি একটি পাত্রী পছন্দ করা হয়েছিল। আজ ওই পাত্রীর অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার কথা ছিল। নজরুল কেন এমন করলেন, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান জুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির উদ্দিন। তিনি বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের গলায় ফাঁসের দাগ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার জেলা সদরের ২৫০ শয্যার হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।