
জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী ছামিনা বেগম (৬০)। হাঁটতে পারেন না। তবু দেশ গড়ার কাজে ভূমিকা রাখতে চান। দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় উঠে ভোট দিয়েছেন এই বৃদ্ধা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের দ্বিতীয় তলার চার নম্বর কক্ষে ভোট দেন এই বৃদ্ধা।
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া বস্তির একটি ঘরে বসবাস করেন ছামিনা বেগম। দেড় বছর আগে স্বামী খুরশিদ আলমকে হারিয়েছেন। সন্তানহীন এই বৃদ্ধার জীবন চলে মানুষের সহায়তায়। আজ সকালে ভোট দিতে অনেকটা পথ হামাগুড়ি দিয়ে কলেজের সিঁড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠেন, সেখানেই ছিল তাঁর নির্ধারিত ভোটকক্ষ।
ভোট দেওয়া শেষে ছামিনা বেগম বলেন, ‘ভোট দিতে আইতে অনেক কষ্ট হইছে। সিঁড়ি দিয়া হামাগুড়ি দিয়া উঠতে জান যায় অবস্থা, তবুও আইছি ভোট দিতে। দেশটা যেন ভালো মতো চলে, একটা পরিবর্তন আসে—এইডাই আমার চাওয়া। দেশের মানুষ ভালো থাকলেই আমি খুশি।’
ছামিনা বেগম যখন জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে নিজের ভোটকক্ষ খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন তাঁকে সহযোগিতা করেন দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল গোলাম রব্বানি শেখ।
গোলাম রব্বানি শেখ বলেন, বৃদ্ধা ছামিনা অনেকক্ষণ ধরে নিজের ভোটকক্ষ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁকে ভোট দিতে সহায়তা করা হয়েছে। ভোট দিতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত ছিলেন।
ওই কক্ষের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সুমনা আক্তার জানান, সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত নারী ভোটকক্ষে ১২টি ভোট পড়েছে। ছামিনা বেগমের কষ্ট করে ভোট দিতে আসা গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় বার্তা।
কেন্দ্রটির কয়েকজন ভোটার বলেন, যেখানে অনেক সক্ষম মানুষও ভোট দিতে অনীহা দেখান, সেখানে দুই পা অকেজো এক বৃদ্ধার হামাগুড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে ভোট দেওয়া অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থাকলে কোনো বাধাই আসলে বাধা নয়।
নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে দুটি ভোটকেন্দ্র আছে। প্রথম দুই ঘণ্টায় নারী ভোটকেন্দ্রে মোট ২০২টি ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হৃদয় রঞ্জন বণিক। আর পুরুষ কেন্দ্রের সাতটি ভোটকক্ষে মোট ৪০০ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রাকেশ ঘোষ।