কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, বাড়ি থেকে উধাও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন। এর আগে গতকাল সকালেই তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

আজ বুধবার দুপুরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আসামি রিপন মিয়া (৩২) নেত্রকোনা সদর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রি। ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করে ‘রিপন ভিডিও’ নামে পরিচিতি পান।

‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—সংলাপভিত্তিক ভিডিওর মাধ্যমে রিপন মিয়া পরিচিত পান। ২০১৯ সালে ‘রিপন মিয়া’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন। পেজটিতে বর্তমানে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৯ লাখ।

অন্যায়ভাবে রিপনের ওপর ঘটনার দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই পারিবারিক যোগাযোগ ছিল।
রিপন মিয়ার স্ত্রী

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। অভিযোগ আছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে একা পেয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন রিপন।

ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রাম ছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাঁকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এরপর ভুক্তভোগীর বাবা থানায় মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্তের বিষয় নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও রিপন তা আমলে নেননি। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি।

এই অভিযোগের বিষয়ে রিপন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকে তিনি বাড়ি নেই।

এ বিষয়ে রিপনের স্ত্রীর ভাষ্য, তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানেন না। তবে মানুষের মুখে মুখে বিষয়টি শুনেছেন। তাঁর দাবি, অন্যায়ভাবে রিপনের ওপর ঘটনার দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই তাঁদের পারিবারিক যোগাযোগ ছিল।