
নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকায় অবস্থিত মাউন্ট এডোরো হসপিটালে বিশ্বমানের বন্ধ্যত্ব দূরীকরণ চিকিৎসা চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা দুইটায় কেক ও ফিতা কেটে এই ফার্টিলিটি (আইভিএফ) সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী পর্বে হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মতিউর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে বন্ধ্যত্ব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সেন্টারের মাধ্যমে সিলেট তথা বাংলাদেশের মানুষ এখন হাতের নাগালেই বিশ্বমানের বন্ধ্যত্ব দূরীকরণ চিকিৎসা পাবেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাশ্রয়ী মূল্যে ও আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নত সেবা দেওয়ার সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি নিঃসন্তান দম্পতিদের জীবনে নতুন আশা নিয়ে আসবে। এখানে শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর নিষেক, টেস্টটিউব বেবি, প্রাথমিক পর্যায়ে বন্ধ্যত্বের সহজ সমাধান, উন্নত মানের শুক্রাণু সরাসরি ডিম্বাণুতে প্রবেশ করানো, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সংরক্ষণ, ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য ক্রায়োপ্রিজারভেশন করার সুযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, স্যালাইন ইনফিউশন সনোগ্রাফি, জেনেটিক টেস্টিং সুস্থ সন্তান নিশ্চিতকরণে ভ্রূণের জেনেটিক পরীক্ষা, ল্যাপারোস্কপি ও হিস্টেরোস্কপি: জরায়ু ও টিউবের সমস্যার আধুনিক সমাধানও করার সুযোগ হাসপাতালে রয়েছে।
উদ্বোধনী পর্বে ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আলমগীর সাফওয়াত, পরিচালক সৈয়দ মাহমুদ হাসান, অধ্যাপক কে এম আখতারুজ্জামান, আলমগীর চৌধুরী, মোস্তফা তৌফিক আহমদ ও আখলাক আহমদ, শাহেদ আহমদ ও ফাইজুল আজিজ, উপপরিচালক তানভীরুজ্জামান এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শামসুন্নাহার বেগম হেনা, দীলিপ কুমার ভৌমিক, ইশরাত জাহান করিম, নিবাস চন্দ্র পাল ও সুধাকর কৈরী উপস্থিত ছিলেন।
ফার্টিলিটি (আইভিএফ) সেন্টারের পরিচালক ও সমন্বয়ক এবং বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ কিশোয়ার পারভীন জানান, এ সেন্টারে ডিম্বাণু-শুক্রাণু হিমায়িতকরণ এবং ভ্রূণ পরীক্ষার মতো সব ধরনের উন্নত ও আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। আধুনিক ল্যাবরেটরি, আইভিএফআইটি এবং অভিজ্ঞ এমব্রায়োলজিস্টদের মাধ্যমে এখানে সর্বোচ্চ সাফল্যের হার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।