প্রার্থীরা একে অন্যের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু দেখা হওয়া মাত্রই কোলাকুলিতে মিললেন সবাই। পরে বক্তব্যে জানান, জয়–পরাজয় বড় কথা নয়—সবাই মিলেই গড়বেন সম্প্রীতির সিলেট।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সিলেট শহরতলির বিমানবন্দর এলাকার পাঁচ তারকা গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত এক নির্বাচনী সংলাপে এমন দৃশ্য দেখা যায়। প্রথম আলো ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে ‘সহিংসতা নয়, গড়ি সম্প্রীতির সিলেট’ শীর্ষক এ সংলাপ চলে বেলা ১টা ২২ মিনিট পর্যন্ত।
সংলাপ শুরুর আগেই বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা কোলাকুলি ও খোশগল্পে মেতে ওঠেন। প্রার্থীদের এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নজর কাড়ে এবং তাঁরা এর প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে এসে সিলেট–১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাবিবুর রহমান একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। একইভাবে সিলেট–৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়নাল আবেদীন সৌহার্দ্য বিনিময় করেন। এ ছাড়া সিলেট–১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান ও সিপিবির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনও কুশল বিনিময় করেন।
সংলাপটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী। এতে বক্তব্য দেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি সিলেটের উপাচার্য মোহাম্মদ জহিরুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কিবরিয়া সরওয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি সৈয়দা শিরিন আক্তার, সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি সমর বিজয় সী শেখর, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আবদুর রহমান, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন, সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী ও শিক্ষক সাইদুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল সিলেটের জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আসমা আক্তার। এ ছাড়া প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন ও সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমনকুমার দাশ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সিলেট সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এই সম্প্রীতি ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সেই দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতাদেরই নিতে হবে।
সংলাপে চা–শ্রমিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানবেতর জীবনযাপন, যোগাযোগ–সংকট নিরসন, শিল্পায়নের বিস্তার, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, পর্যটন এলাকার উন্নয়ন ও সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে আলোচিত হয়।