কক্সবাজারের রামুতে পাহাড় কেটে নির্মাণ করা একটি পাকা ভবন। সম্প্রতি তোলা
কক্সবাজারের রামুতে পাহাড় কেটে নির্মাণ করা একটি পাকা ভবন। সম্প্রতি তোলা

কক্সবাজারে পাহাড় কাটা বন্ধে ১২ কর্মকর্তাকে বেলার চিঠি

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ছাইল্ল্যাতলী এলাকায় পাহাড় কাটা বন্ধ করতে দুই সচিবসহ সরকারি ১২ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। চিঠিতে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ডাকযোগে এ চিঠি পাঠান বেলার আইনজীবী জাকিয়া সুলতানা। চিঠিতে পাহাড় কেটে নির্মাণ করা স্থাপনা অপসারণ করে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

সরকারের যে ১২ কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক, বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ও কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা।

বেলার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম বিভাগের ৫ জেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। ২০১২ সালের ১৯ মার্চ এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নির্দেশনায় পাহাড় কেটে কোনো আবাসন কিংবা ইটভাটা করা হয়ে থাকলে তা ভেঙে ফেলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।’

সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে বেলার চিঠিতে বলা হয়, ‘রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ছাইল্ল্যাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি পাহাড় নির্বিচারে কাটা হচ্ছে। স্থানীয় সংঘবদ্ধ চক্র এসব পাহাড় কাটায় জড়িত। পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিমানা বা বন বিভাগের মামলা—কিছুতেই চক্রটিকে ঠেকানো যাচ্ছে না।’

চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে বেলার আইনজীবী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘কক্সবাজারে পাহাড় কাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এরপরও পাহাড় কাটা চললে উচ্চ আদালতের নজরে আনা হবে।’