শরীয়তপুর পৌরসভার পালং বাজার এলাকায় আজ সোমবার সকালে তোলা
শরীয়তপুর পৌরসভার পালং বাজার এলাকায় আজ সোমবার সকালে তোলা

চার দিন ধরে অপসারণ বন্ধ, শরীয়তপুর শহরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

ঈদের আগের দিন থেকে শরীয়তপুর পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা বন্ধ থাকায় আবাসিক এলাকায় স্তূপ হয়ে আছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

শরীয়তপুর পৌরসভা সূত্র জানায়, ১৯৮৫ সালে ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার যাত্রা শুরু। বর্তমানে প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। পৌরসভার পালং বাজার, আংগারিয়া বাজার, মনোহার বাজার ও মনোহর গরুর হাট অবস্থিত। এসব বাজার ও বিভিন্ন আবাসিক মহল্লা থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন বর্জ্য অপসারণ করে থাকেন। এ কাজ করার জন্য পৌরসভার নিজস্ব ও চুক্তিভিত্তিক ৪০ জন কর্মী রয়েছেন। ঈদের ছুটি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য অপসারণ করেছেন। এরপর চার দিন ধরে অপসারণ না করায় শহরে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে।

জানতে চাইলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সুপারভাইজার শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা কর্মীরা অপসারণ করেন। ঈদের কারণে দুই দিন বন্ধ ছিল। আর বৃষ্টির কারণে এক দিন বন্ধ ছিল। আগামীকাল থেকে শহরের সব ময়লা অপসারণ করার কাজ শুরু করা হবে।

ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের পালং মডেল থানার দক্ষিণ কোণে চা ও কনফেকশনারির দোকান চালান রিপন মণ্ডল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার দোকানের অদূরে একটি অস্থায়ী ডাস্টবিন। সেখান থেকে চার দিন ধরে ময়লা সরানো হচ্ছে না। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় আমার দোকানে কোনো ক্রেতা আসছেন না। মুখে মাস্ক পরেও আমরা দোকানে বসতে পারছি না। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে তো আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ব।’

পালং বাজারের ব্যবসায়ী গৌরচাঁন বণিক প্রথম আলোকে বলেন, ময়লা পরিষ্কার করার জন্য মহল্লার প্রতিটি বাসা থেকে মাসে ১৫০ টাকা আর দোকান থেকে ২০০ টাকা নেয় পৌরসভা। এটি একটা জরুরি সেবা। এভাবে চার দিন ময়লা না সরালে মানুষ কীভাবে থাকে।

জানতে চাইলে শরীয়তপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তো প্রতিদিন কাজ করেন। এ খাতের কর্মীদের কোনো ছুটি নেই। কেউ ছুটিতে গেলেও কেউ না কেউ তাঁর কাজটি করার কথা। কেন ময়লা অপসারণ করা হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা হবে।