বগুড়া শহরের সড়কে বিক্রি হচ্ছে ধানের শীষ প্রতীক। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে বেচাবিক্রিও বেশ। বুধবার শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে
বগুড়া শহরের সড়কে বিক্রি হচ্ছে ধানের শীষ প্রতীক। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে বেচাবিক্রিও বেশ। বুধবার শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে

তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত বগুড়াবাসী, কখন কোথায় কী কর্মসূচি

দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার পৈতৃক জেলা বগুড়ায় আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজশাহী ও নওগাঁয় দলীয় কর্মসূচির পর সড়কপথে বগুড়ায় যাবেন তিনি। সন্ধ্যায় শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তাঁকে বরণ করে নিতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।

বগুড়ার চার তারকা হোটেল ‘নাজ গার্ডেনে’ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাত্রিযাপন করবেন তারেক রহমান। শুক্রবার নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রচারণায় অংশ নেবেন তিনি। বিকেলে পৈতৃক ভিটা গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে জিয়াবাড়িতে যাবেন। পথে গাবতলী ও শাজাহানপুরে পথসভায় ভাষণ দিতে পারেন। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি বগুড়ায় আসার কথা ছিল তারেক রহমানের। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারম্যানের সেই সফর বাতিল করা হয়। লন্ডনে প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর এটাই নিজ নির্বাচনী এলাকায় তাঁর প্রথম সফর। স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ২০০৬ সালে সর্বশেষ বগুড়ায় এসেছিলেন তারেক রহমান।

জনসভার জন্য বিকল্প মাঠের খোঁজ

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনী জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে চায় জেলা বিএনপি। জনসভার জন্য শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। চার দিন ধরে মাঠে বিশাল মঞ্চ নির্মাণ ও সাজসজ্জাও করা হয়েছে। কিন্তু তারেক রহমানের জনসভায় প্রচুর লোকসমাগমের আভাস পেয়ে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে স্থান সংকুলান হওয়া নিয়ে শেষ মুহূর্তে শঙ্কায় পড়েছেন আয়োজকেরা।

বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। চলছে মাঠের প্রস্তুতি। বুধবার দুপুরে

আয়োজকেরা জানান, তারেক রহমানের ‘নিরাপত্তা সেল’ থেকে এ ব্যাপারে আপত্তি তোলায় শেষ মুহূর্তে বিকল্প মাঠ খুঁজছেন তাঁরা। আজ বুধবার সকাল থেকে বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেনসহ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা শহরের সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠসহ শহর ও শহরতলির বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শন করেন।

রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের ধারণক্ষমতা লাখের কাছাকাছি। মাঠটি নিয়ে তারেক রহমানের নিরাপত্তা সেলের আপত্তি থাকায় তাঁরা আজ সকাল থেকে বিকল্প মাঠের খোঁজে শহর ও শহরতলি চষে বেড়িয়েছেন। সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠের চেয়ে আলতাফুন্নেছায় ধারণক্ষমতা বেশি। শহরের বাইরে মাঠের জমিতে কৃষকের ফসল আছে। সব মিলিয়ে জনসভা আলতাফুন্নেছা মাঠে হবে নাকি বিকল্প কোনো মাঠে হবে, এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন আলতাফুন্নেছায় মূল জনসভা করে বড় পর্দায় বিকল্প মাঠে জনসমাবেশের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তাঁরা ভাবছেন।

শুক্রবার যাবেন পৈতৃক বাড়ি

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, রাজশাহী ও নওগাঁয় জনসভার পর বগুড়ার সান্তাহার, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, কাহালুর বিবিরপুকুর, শেখাহার, মুরইল বাজার, বগুড়ার চারমাথা, তিনমাথা রেলগেট, শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা হয়ে জনসভাস্থলে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। সন্ধ্যায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পরপর রাতে হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত যাপন করবেন।

পরদিন শুক্রবার বগুড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে তিনি গণসংযোগ করবেন। বায়তুর রহমান জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে নাজ গার্ডেনে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে যাবেন। তিনি গাবতলী ও শাজাহানপুরে দুটি পথসভায় ভাষণও দিতে পারেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা-১৭ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান। ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব কটি নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য হন খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুর পর এবারই প্রথম তারেক রহমান প্রার্থী হয়েছেন।

‘নাজ গার্ডেনে’ কঠোর নিরাপত্তা

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে হোটেল ‘নাজ গার্ডেন’ নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছে। নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। অতিরিক্ত সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হোটেলটির মালিক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শোকরানা বলেন, নাজ গার্ডেন গড়ে তোলা হয়েছিল বিএনপির চেয়ারম্যানের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায়। দীর্ঘ ২০ বছর পর তিনি বগুড়া সফরে এসে রাত যাপনের জন্য নাজ গার্ডেনের আতিথেয়তা গ্রহণে সম্মতি দেওয়ায় তাঁরা খুবই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। তাঁর আগমন ঘিরে হোটেলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আজকের মধ্যে হোটেলের সব কক্ষ খালি করা হবে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হোটেলে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারেক রহমানের জন্য দুটি প্রেসিডেন্সি সুইট কক্ষ এবং সফরসঙ্গীদের জন্য অন্য ১০০ কক্ষ খালি রাখা হয়েছে।