সোনাগাজীতে বিএনপির চার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার, যুবদল-ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

গতকাল রাতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি সৈয়দ আলম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা দুই মামলায় গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে পৌর শহরসহ উপজেলা চর সাহাভিকারী ও সোনাপুর এলাকা থেকে বিএনপি ও যুবদলের চার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত দুই দিন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

গতকাল রাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি সৈয়দ আলম ভূঁইয়া, যুবদলের কর্মী আবদুল হালিম, আবদুর রহমান ও কেফায়েত উল্যাহ। এর আগে গত সোমবার রাতে উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকা থেকে যুবদলকর্মী মো. রিপনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে গতকাল রাতে পুলিশের একাধিক দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালায়। এ সময় পৌরশহর থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি সৈয়দ আলম ভূঁইয়া, সোনাপুর থেকে কেফায়েত উল্যাহ এবং উপজেলার চর সাহাভিকারী থেকে আবদুল হালিম ও তার ভাই আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ বুধবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হবে।

এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও দাগনভূঞায় মিন্টুর গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে গতকাল রাতে পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও আবদুল আউয়াল মিন্টুর গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে গতকাল রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদল ও ছাত্রদল

বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলা উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষমতাসীন দলকে খুশি করতে পুলিশ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযান শুরু করেছে। গত দুই দিনে সোনাগাজী উপজেলা থেকে পাঁচ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি সৈয়দ আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। অবিলম্বে গ্রেপ্তার সব নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তিনি।

গত সোমবার বিকেলে পৌরশহরের শেষ সীমানায় ভৈরব রাস্তার মোড় এলাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জ্বালানি তেল, পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে দলের দুই নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বিকেল পাঁচটার দিকে বিএনপির সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ একদল কর্মী এসে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৬০টি শটগানের ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটনায়।