কুমিল্লার চান্দিনায় বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আতিকুল আলম ওরফে শাওনকে উপজেলা যুবদলের ব্যানারে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে চান্দিনা পৌর অডিটোরিয়ামে তোলা
কুমিল্লার চান্দিনায় বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আতিকুল আলম ওরফে শাওনকে উপজেলা যুবদলের ব্যানারে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে চান্দিনা পৌর অডিটোরিয়ামে তোলা

কুমিল্লায় বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সংসদ সদস্য আতিকুলকে যুবদলের ব্যানারে সংবর্ধনা

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম ওরফে শাওনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এলডিপি থেকে দলটিতে যোগদান করা রেদোয়ান আহমেদকে হারিয়ে বিজয়ী হন তিনি। এবার সেই বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আতিকুল আলমকে সংবর্ধনা দিয়েছে যুবদল।

উপজেলা যুবদলের ব্যানারে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে চান্দিনা পৌর অডিটোরিয়ামে এই ‘যুব সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মো. আবুল খায়ের। দলীয় সভায় বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আবুল খায়েরকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

এদিকে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আতিকুল আলমের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুল ইসলামের বক্তব্যকে ঘিরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বক্তব্যে তিনি আতিকুল আলমের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার নির্বাচনে ২০ কোটি খরচ হলে, প্রয়োজনে কমিটি আনতে ১০ কোটি খরচ করবেন।’ ইতিমধ্যে মনিরুলের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ রোববার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মো. মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনে সংসদ সদস্য কত টাকা খরচ করেছেন, সেটা আমি জানি না। আমি কথাটি বলার আগে “যদি”শব্দটি ব্যবহার করেছি। আর প্রয়োজনে কমিটি আনতে ১০ কোটি টাকার খরচের কথাটি বলার কারণ হচ্ছে, নির্বাচনের আগে রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ নিয়ে আসেন। এখন শুনছি তাঁর এলডিপির লোক; যারা নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দিয়েছে, তাদের নিয়ে বিএনপির কমিটি আনার পাঁয়তারা চলছে। আতিকুল আলমসহ আমরা গত ১৭ বছর মাঠে ছিলাম। অনেকবার মামলা-হামলার শিকার হয়ে জেলেও গেছি। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে যেন কমিটি না হয়, এ জন্য বলেছি প্রয়োজনে ১০ কোটি খরচ করে কমিটি আনতে। আর মূল বিষয় হচ্ছে আমি এটি “কথার কথা” বলেছি।’

চান্দিনা উপজেলা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের অন্তত পাঁচজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সংবর্ধনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে উপজেলা যুবদল ভোটের সময় ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেনি। দলের নির্দেশনা না মেনে এভাবে বহিষ্কৃত নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া সংগঠনবিরোধী কাজ। বিষয়টি নিয়ে দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মো. আবুল খায়ের ছাড়াও এই আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান মুন্সী।

জানতে চাইলে শাহজাহান মুন্সী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আতিকুল আলম শাওন ভাই বিএনপির লোক, তিনি দীর্ঘদিন আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি দল যেকোনো সময় তাঁকে ফিরিয়ে নেবে। এ জন্য এখনো নতুন কোনো কমিটি দেয়নি। আতিকুল আলম শাওন ভাইকে বিএনপির লোক হিসেবেই আমরা সংবর্ধনা দিয়েছি। তবে সাংগঠনিকভাবে বলতে গেলে আমরা এটা করতে পারি না।’

কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলে বর্তমানে কোনো কমিটি নেই। এ জন্য এ বিষয়ে কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নেতারাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।