যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগে স্বামীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরসভার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে
যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগে স্বামীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরসভার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে

নেত্রকোনায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ, স্বামীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শাহিদা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌরসভার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে শাহিদার বাবা শহীদ মিয়া, মা ময়না আক্তারসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের শাহিদার প্রায় এক বছর আগে এক প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে হয়। স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। গত বছরের আগস্ট মাসে পার্শ্ববর্তী বাখরপুর গ্রামের মোনাইদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোনাইদ শাহিদাকে বিয়ে করেন। সে সময় শাহিদা তাঁর আগের স্বামীকে তালাক দেন।

স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শাহিদার কাছে ছয় লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। দরিদ্র পরিবার যৌতুকের টাকা না দিতে পারায় মোনাইদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিভিন্ন সময় মারধর, গালাগাল ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ২৯ মার্চ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শাহিদা বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১ এপ্রিল শাহিদার বাবা শহীদ মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় মোনাইদ হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া শ্বশুর শফিকুল ইসলাম, ভাশুর জুনাইদ হোসেন, ননদ চম্পা আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। গত ৯ এপ্রিল মোনাইদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রধান আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে বাদীপক্ষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এ বিষয়ে জানতে মোনাইদ হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, মামলাটির তদন্তকাজ শেষে কয়েক দিন আগে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এখন মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।