ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পবিত্র ঈদুল আজহার মাংস মসজিদে ভাগ হবে, নাকি যাঁর যাঁর বাড়িতে ভাগ হবে—এ নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে চার থেকে পাঁচটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ঈদের দিন আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা মোল্লা ও মাতুব্বর—এ দুই ভাগে বিভক্ত। মোল্লাপক্ষের নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান মোল্লা এবং মাতুব্বরপক্ষের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর। সেখানে কোরবানির তিনটি ভাগের যে অংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করা হয়, সেই অংশ গ্রামের সব মাংস এক জায়গায় করে বিতরণ করা হয়ে থাকে। এবার সেই মাংস মসজিদ থেকে বিতরণ করা হবে, নাকি যাঁর যাঁর বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে, এ নিয়ে ঈদের নামাজের শুরুতেই কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
এ নিয়ে গ্রামের ‘মোল্লাপক্ষ’ ও ‘মাতুব্বরপক্ষ’-এর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের লোকজন ঈদের নামাজ পড়া বাদ দিয়ে রামদা, দা, ঢাল-সড়কি, ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৩০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। এ ছাড়া অনেকে ওই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর মোল্লা বলেন, ঈদের আনন্দের দিন কোরবানির মাংস বণ্টনের বিষয় নিয়ে এমন মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তা ছাড়া ঈদের নামাজ বা পশু জবাইও তখন হয়নি। এর আগেই মাংস বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে দুই দল সংঘর্ষে জড়ায়; যদিও পরে অনেকে পশু কোরবানি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, কোরবানির মাংস কোন স্থানে রেখে বণ্টন করা হবে, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন। তবে আহত বেশি গুরুতর না হওয়ায় কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ওই এলাকায় ঈদের নামাজ ও পশু কোরবানি হয়। বর্তমানে এলাকায় শান্ত আছে, পুলিশ সরিয়ে আনা হয়েছে।