শরীয়তপুরের জাজিরার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় এক ব্যক্তিকে হত্যার জেরে প্রতিপক্ষের ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বৃহস্পতিবার তোলা
শরীয়তপুরের জাজিরার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় এক ব্যক্তিকে হত্যার জেরে প্রতিপক্ষের ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বৃহস্পতিবার তোলা

জাজিরায় সংঘর্ষের দুই দিন পর আবার ককটেল বিস্ফোরণ, লুটপাটের অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণে একজন নিহত হওয়ার দুই দিন পর একই এলাকায় আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রাতে মুলনা ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।

ওই সময় প্রতিপক্ষের অন্তত ৩০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে গতকাল রাতে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, গ্রামে আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার রাতে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ককটেলের আঘাতে রেজাউল শিকদারের পক্ষের সমর্থক মান্নান সরদার (৭০) নিহত হন।

কয়েকটি বাড়ি–ঘরে ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে

মান্নান সরদারের ছেলে আনোয়ার হোসেন গতকাল জাজিরা থানায় আওয়ামী লীগ নেতা তমিজ খাঁকে প্রধান আসামি করে ৮৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ওই মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ আছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ান। মান্নান সরদার নিহত হওয়ার পর তমিজ খাঁ ও তাঁর সমর্থকেরা এলাকা ছেড়ে চলে যান।

এরপর বুধবার রাতে মান্নান সরদারের স্বজন ও রেজাউল শিকদারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে তমিজ খাঁ ও তাঁর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা বাড়িঘর থেকে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছেন।
তমিজ খাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন। ঘরের বিভিন্ন জিনিস লুট করে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ও সমর্থকদের বাড়ি থেকে গরু, ছাগলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা রেজাউল শিকদার। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে তমিজ খাঁ এলাকার অনেক মানুষকে নির্যাতন ও চাঁদাবাজি করেছেন। তাঁর লোকজনের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং ওই হামলায় তাঁর এক আত্মীয় মারা গেছেন। এখন তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা সাজানো হচ্ছে।

ওসি সালেহ আহম্মেদ বলেন, মান্নান সরদার নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বুধবার রাতে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ওই গ্রাম ঘিরে রেখেছিল।