পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ৪২৫টি কচ্ছপ উদ্ধারের পর নিয়ে আসা হয় নোয়াখালীর উপকূলীয় বন বিভাগের কার্যালয়ে। আজ দুপুরে তোলা
পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ৪২৫টি কচ্ছপ উদ্ধারের পর নিয়ে আসা হয় নোয়াখালীর উপকূলীয় বন বিভাগের কার্যালয়ে। আজ দুপুরে তোলা

পাচারের জন্য পরিত্যক্ত ঘরে রাখা ৪২৫টি কচ্ছপ উদ্ধার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী থেকে বিলুপ্তপ্রায় চারটি প্রজাতির ৪২৫টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে উপকূলীয় বন বিভাগ। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডলপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে কচ্ছপগুলো উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগ জানায়, গোপনে খবর পাওয়া যায় চৌমুহনীর মণ্ডলপাড়ার মন্দিরের পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে বিপুলসংখ্যক কচ্ছপ পাচারের উদ্দেশে মজুত করা হয়েছে—এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় বন বিভাগ। অভিযানে ওই পরিত্যক্ত ঘরে বেশ কিছু ড্রামের মধ্যে ৪২৫টি কচ্ছপ পাওয়া যায়। এসব কচ্ছপের মধ্যে ১০০টির মতো মৃত, বাকিগুলো জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফের নির্দেশনায় সহকারী বন সংরক্ষক এ কে এম আরিফুজ্জামান, বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক সাদিক আবদুল্লাহ ও সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখ মো. কামরুজ্জামান অভিযানে অংশ নেন।

উদ্ধার করা ২৫টি কচ্ছপ বন বিভাগের স্থানীয় একটি পুকুরে অবমুক্ত করা হয়। আজ দুপুরে তোলা

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপের মধ্যে ২৫টি আজ শনিবার দুপুরে বন বিভাগের স্থানীয় পুকুরে অবমুক্ত করা হয়েছে। বাকি কচ্ছপগুলো দেশের বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়ে এবং টাঙ্গাইলের মধুপুরের জাতীয় উদ্যানে কচ্ছপের প্রজননকেন্দ্রে অবমুক্ত করা হবে। এ ছাড়া গবেষণার কাজে মৃত কচ্ছপগুলো ব্যবহার করা হবে।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক সাদিক আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, নোয়াখালীতে প্রায় সময় বন্য প্রাণী, বিশেষ করে কচ্ছপ জড়ো করে পাচার করা হয়। গত বছরও নোয়াখালী জেলা থেকে এক টনের মতো কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়া কচ্ছপগুলো ধুম, সন্ধি, করি কাইট্টা ও হলুদ কাইট্টা প্রজাতির। এই চার প্রজাতিই বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্ত।