গ্রেপ্তার সঞ্জয় সরকার (ডানে ), তাঁর সহযোগী শাহিন হোসেন (মাঝে) ও আশরাফুল ইসলাম। বুধবার বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে
গ্রেপ্তার সঞ্জয় সরকার (ডানে ), তাঁর সহযোগী শাহিন হোসেন (মাঝে) ও আশরাফুল ইসলাম। বুধবার বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে

বগুড়ায় অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

বগুড়ায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সাংবাদিক পরিচয়ে এক প্রকৌশলীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে যুবদলের এক নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়া শহর যুবদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সরকার (৩০), তাঁর সহযোগী শাহিন হোসেন (৩৪) ও আশরাফুল ইসলাম (৪২)। বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুক্তিপণের ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপহৃত জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব (৫৫) বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী। তিনি বগুড়া শহরের চেলোপাড়া এলাকায় থাকেন।

মামলার এজাহার ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ১২ জানুয়ারি পৌর এলাকার কুঠিবাড়ি এলাকায় নালা নির্মাণের কাজ পরিদর্শনে যান। দুপুরের খাবার খেতে মোটরসাইকেলযোগে সেখান থেকে কালীতলা গ্রোয়েন বাঁধের দিকে যাওয়ার পথে দুটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন যুবক তাঁর পথরোধ করেন। এরপর ডিবি পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে অপহরণের পর বগুড়া শহরে একটি বাসায় জিম্মি করে রেখে অপহরণকারীরা তাঁর স্ত্রী আনজুমান আরার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে আড়াই লাখ টাকার মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহৃত প্রকৌশলীকে ছেড়ে দিতে রাজি হন অপহরণকারীরা। ওই দিন বগুড়া শহরের চেলোপাড়া মধুবন সিনেপ্লেক্সের সামনে মুক্তিপণের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বুঝে নেওয়ার পরও অপহৃত প্রকৌশলীকে ছেড়ে না দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে আরও ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বগুড়া ডিবির ইনচার্জ (ওসি ডিবি) ইকবাল বাহার প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের স্ত্রী মঙ্গলবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন। পরে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে অপহরণকারী দলের ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় মুক্তিপণের ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তাঁরা প্রথমে কৌশলে ওই প্রকৌশলীকে বগুড়া সদর থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় হওয়া একটি মামলায় ফাঁসিয়েছেন। এরপর ডিবি ও সাংবাদিক পরিচয়ে ওই প্রকৌশলীকে সারিয়াকান্দি থেকে অপহরণ করে এনে মুক্তিপণ আদায় করেছেন।

বগুড়া শহর যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সঞ্জয় সরকারকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।