পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা খাল পুনঃখননের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। আজ মঙ্গলবার সকালে
পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা খাল পুনঃখননের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। আজ মঙ্গলবার সকালে

পাথরঘাটায় মরা খাল পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা খালে এখন আর পানি নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, একসময় খালটিতে চলত বড় বড় জাহাজ ও নৌকা; দেখা যেত কুমির। এটি এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। কালমেঘার মরা খালটি পুনঃখননের দাবি এলাকাবাসীর। ওই দাবিতে খালের পাড়েই আজ মঙ্গলবার সকালে কাঁধে কলসি, হাতে জাল নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কাল‌মেঘা খালে পানি নেই, তাই দূরের পুকুর থেকে পানি টেনে আলু খেতে দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে। আর অনেক ক্ষেত্রে সেচ দেওয়া সম্ভবই হচ্ছে না। তাই বিষখালী নদীসংলগ্ন কালমেঘা বাজার থেকে দক্ষিণ কুপধন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খালটি পুনঃখনন জরুরি।

মানববন্ধনের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুপধন আলুচাষি সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান। বক্তব্য দেন সমাজকর্মী গোলাম মোস্তফা, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও আনোয়ার হাজী, পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। দক্ষিণ কুপধন আলুচাষি সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষকসহ এলাকাবাসী।

গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, একসময় খাল থেকেই সহজে পানি পাওয়া যেত। এখন এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। শুধু পানির পেছনেই বড় অঙ্কের টাকা যাচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠানো কঠিন।

খলিলুর রহমান আরও বলেন, আগে এই এলাকায় কয়েক শ একর জমিতে আলুর চাষ হতো। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। পানির সংকটে অনেক কৃষক জমি চাষ কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ পুরোপুরি অন্য ফসলে চলে যাচ্ছেন।

জানতে চাইলে পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, মরা খালের কারণে কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে। তা ছাড়া সেচসুবিধা না থাকায় রূপদোন ও কুপধন এলাকায় আগের চেয়ে আলু চাষ কমেছে। সরকারের খাল খনন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হলে এই এলাকায় আলু চাষসহ কৃষি উৎপাদন বাড়বে।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, খাল পুনঃখননের কাজ ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। অগ্রাধিকার তালিকায় কালমেঘা খাল রয়েছে।