
বগুড়ার শহরতলীর সাবগ্রাম এলাকার একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে এক ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির নাম সামিউল হাসান (শুভ)। তিনি বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, জনতা ব্যাংকের দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি বগুড়া সদরের সাবগ্রাম এলাকার ‘মায়ের আশ্রয়’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছিল।
স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সামিউল হাসানের আগে থেকে শারীরিক সমস্যা ছিল না। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ব্যাংক কর্মকর্তা সামিউল হাসানের মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক। পরিবারের অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিহত ব্যক্তির পরিবার ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, সামিউল হাসান জনতা ব্যাংকে সিনিয়র কর্মকর্তা পদে চাকরি করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ১৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে শহরের সাবগ্রাম দ্বিতীয় বাইপাসসংলগ্ন ‘মায়ের আশ্রয়’ নামের একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা সামিউলকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক অমিত সাহা জানান, সামিউলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
সামিউল হাসানের ভগ্নিপতি এ টি এম ফরহাদ অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সামিউলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ফরহাদ বলেন, সামিউল মাদকাসক্ত ছিলেন না। প্রায় এক মাস আগে তিনি ডাকাতির শিকার হন। ওই ঘটনার পর থেকে সামিউল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ও ট্রমায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শেই তাঁকে কিছুদিন পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য কেন্দ্রে রাখা হয়। একজন চিকিৎসকের পরামর্শে ১৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। গতকাল হঠাৎ রাত ৯টার দিকে নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয় সামিউল মারা গেছেন।
সামিউলের চাচাতো ভাই তাপস হোসেন বলেন, সামিউলের ডান হাত ও ডান পাশের পাঁজরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রটির দায়িত্বশীল কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে হুমায়ুন কবির নামে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনিই সামিউলকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলাম, পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যাকাণ্ড কি না। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাময় কেন্দ্রের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, মায়ের আশ্রয় নামে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।