শিক্ষক এস এম হেমায়েত জাহানকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সামনে
শিক্ষক এস এম হেমায়েত জাহানকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সামনে

পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে কক্ষে তলাবদ্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) পরীক্ষার দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শিক্ষক এস এম হেমায়েত জাহানকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করার ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ, জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে কৃষি অনুষদের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি কৃষি অনুষদের উদ্ভিদ ও রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জেহাদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান, অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল হক, আসাদুজ্জামান মুন্না, মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

ভুক্তভোগী কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, গত সোমবার তাঁর কক্ষে এক শিক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা চলছিল। বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী তাঁর কক্ষের সামনে আসেন এবং পঞ্চম সেমিস্টারের এক অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি কক্ষের ভেতরে থাকা অবস্থায় তাঁরা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। পরে অন্য শিক্ষক ও অনুষদের কর্মচারীরা তালা ভেঙে তাঁকে মুক্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল কর্মী-সমর্থক এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত ইসলাম সাগর বলেন, ‘ঘটনাটি আসলেই নিন্দনীয়। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নন। কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি জেহাদ পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪ আগস্ট কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান পরীক্ষার দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তাঁকে তালাবদ্ধ করা হয়। এ ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি ইতিমধ্যে প্রশাসন বরাবর আবেদন করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ করে প্রক্টরিয়াল বডি এবং ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টামণ্ডলীর পক্ষ থেকে তেমন কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।