
কুমিল্লার দেবীদ্বারে আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সেই দায়িত্ব পালন না করে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন, আবদুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) বাচ্চু মিয়া ও ওই বিদ্যালয়ের এক ছাত্র (১৬)। গতকাল শনিবার রাতে দুজনের বিরুদ্ধে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তার।
এ সম্পর্কে আজ রোববার দুপুরে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলা করার পর গতকাল রাতেই নিজ নিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে। তাঁরা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। মামলায় পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র পরীক্ষক নিজে মূল্যায়ন না করে নিজের ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ওই দিনই বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন।
মামলার বাদী কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বোর্ডের পক্ষ থেকে দেবীদ্বার থানায় মামলা করা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।