
বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন-পরবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া গতকাল রাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ, কিশোরগঞ্জ, মেহেরপুর, পটুয়াখালী ও দিনাজপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করেছে প্রতিপক্ষ। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে। এদিকে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি কারি মোল্লা, জামায়াতের কর্মী জাহাঙ্গীর শেখ, ইয়াকুব আলী হাওলাদার, মশিউর রহমানসহ পাঁচ-ছয়জনের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গভীর রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক ওই ঘটনা ঘটায়।
এদিকে এ ঘটনার জেরে আজ সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাড়িসহ সাত-আটজন বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির অভিযোগ, জামায়াতের সমর্থক আনোয়ারুল হাওলাদার ও সুমন হাওলাদারের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ওই এলাকা থেকে ইমরান ও তারেক নামের দুজনকে আটক করেছে।
কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়ায় এলাকায় বিএনপির প্রার্থী ভোট কম পাওয়ায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও না পেয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় ব্যবসায়ী শেখ আবদুস সালামকে উদ্ধার করে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি চন্দ্রপাড়ায় গ্রামে।
আবদুস সালামের ছেলে নাহিদ হাসান বলেন, ‘আজ সকালে স্থানীয় বাজার থেকে সার কিনে নিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে ফতেপুর বাজারের কাছে একদল সন্ত্রাসী রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার বাবার পথ রোধ করে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সমর্থক বাবার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা দিয়ে আমার বাবাকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে যায়।’
এদিকে কচুয়া উপজেলার গোপালপুর শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিপক্ষের মারধরে আসাদ মোল্লা, মোশারেফ শেখ ও শফিক মীর নামে বিএনপির তিন কর্মী আহত হয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের (ঘোড়া প্রতীক) সমর্থক মিজান শেখের নেতৃত্বে কয়েকজন আসাদ মোল্লা ও মোশারেফকে মারধর করে। শরীফ শিকদার ও সজীব শিকদার মারধর করে শফিক মীরকে।
এ ছাড়া কচুয়ার বাধাল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের সমর্থকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই আসনের বিজয়ী প্রার্থী আবদুল আলীম।
নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বাগেরহাট ১, ২ ও ৪—এই তিনটি আসনের জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। আর বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয় পেয়েছেন।
বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, হুমকির অভিযোগ তুলে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম বলেন, ‘নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে পরাজিত এবং বিজিত প্রার্থীর সমর্থকেরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা করছে। আমাদের নেতা–কর্মীদের মারধর, বাড়িঘরে হামলা করেছে, হুমকি দিচ্ছে। যা মোটেই কাম্য নয়। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
তবে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, ‘এগুলোর সঙ্গে আমাদের দলের কেউ জড়িত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি ঘটনায় প্রশাসনকেও আমি কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।’
জানতে চাইলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ আসছে। ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর আছে। যেকোনো অপরাধের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেসব ঘটনা ঘটেছে, জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ: আজ বেলা ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে (নিকলী এবং বাজিতপুর উপজেলা) বিজয়ী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ও পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর ইউনিয়নের হুমায়ুনপুর গ্রামের এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শেখ মজিবুর রহমানের অনুসারী হিসেবে হুমায়ুনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ. রাশিদের পরিচিতি আছে। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাইয়ুম খান সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থক। আজ সকালে এই দুই নেতার অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে শেখ মজিবুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান। তিনি আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর হাঁস প্রতীকের কাছে ১৩ হাজার ১৫৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা।
বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহত চারজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধের জেরে জামায়াতে ইসলামীর তিন কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ সকালে উপজেলার জোড়পুকুরিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন জোড়পুকুরিয়া গ্রামের দুই ভাই উজ্জ্বল হোসেন (৩০) ও মাসুদ রানা (৪৫) এবং জুয়েল রানা (২৮)। উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য দুজন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওই তিনজন জোড়পুকুরিয়া বাজারের একটি দোকানে চা পান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি কর্মী মহিবুল, তাঁর ছেলে রিপন, বেলু, সাহেবসহ কয়েকজন দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হুদার পক্ষে কাজ করায় পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
গাংনী উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া সেলের প্রধান মাহাবুব বলেন, সরকার গঠন নিয়ে নিশ্চিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নেতা-কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন বিএনপির কর্মীরা।
এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে প্রায় ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়লাভ করেছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী নাজমুল হুদা। এই জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করেই এলাকায় উভয় দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঝিনাইদহ: জেলায় ৫টি সহিংসতায় অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প, সমর্থকদের বাড়িঘর ও প্রেসক্লাবে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। শৈলকুপা, ঝিনাইদহ সদর, মহেশপুর ও কালীগঞ্জে এসব পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, গতকাল সকাল ৯টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনি ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে বিএনপির নেতা মধু মোল্লা ও তপনের সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন।
আজ বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা বাসস্ট্যান্ডের বাজার রোডে ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা পর ভাঙচুর করা হয়। এ সময় খোকন, ইভন ও জবেদ আলী নামের বিএনপির তিন নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে জখম করা হয়। তাঁদের মধ্যে জবেদকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি কালীগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
একই সময়ে সদর উপজেলার নলডঙ্গা ইউনিয়নের ভিটশ্বর গ্রামে কাপ পিরিচ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হন।
আজ সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারের খালকুলা গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ধানের শীষের সমর্থক রবিউল শেখ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর (কাপ পিরিচ) সমর্থক মোশারেফ শেখ ও ইব্রাহিম শেখ আহত হয়।
আজ সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চণ্ডিপুর বাজারে আবদুল কুদ্দুস নামের এক জামায়াতের কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
এর আগে গতকাল রাতে ঝিনাইদহের প্রেসক্লাব মহেশপুর কার্যালয় ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। এ দিন রাত ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত প্রেসক্লাব মহেশপুর কার্যালয়ে এ হামলা চালানো হয়।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, যেসব স্থানে সহিংসতার ঘটেছে, সেসব জায়গায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
পটুয়াখালী: জেলার বাউফল উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আজ সকাল সোয়া ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কালাইয়া বন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামে রমিজ দরজি (৪০) নামের এক বিএনপি কর্মীর বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় সকালে কালাইয়া গ্রামে শাহ আলম (৪৬) নামের এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালায় স্থানীয় যুবদলের একাধিক কর্মী। পরে তাঁরা সেলিম (৫২) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীকে মারধর করেন। এরপর তাঁরা যান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াস উদ্দিনের। খবর পেয়ে সেখানে এসে জামায়াতের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা একত্র হয়ে গিয়াস উদ্দিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করেন।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, জামায়াত ন্যায়বিচারের কথা বললেও নির্বাচনের পরপরই বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং লুটপাট চালাচ্ছে।
এদিকে আজ সকাল আটটার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বীরপাশা খায়েরবাজার এলাকায় আলমগীর গাজী (৫৫) ও শাহাবুদ্দিন সরদার (৪৮) নামের দুই বিএনপির কর্মীকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া আজ বেলা একটার দিকে কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে মো. ফিরোজ (৫৫) নামের জামায়াতের এক সমর্থককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম (মাসুদ) বলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করেন না। তাঁর কোনো কর্মী-সমর্থক হামলা ও মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি জায়গায় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
দিনাজপুর: জেলার বিরামপুর উপজেলায় ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং জামায়াতের এক নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গতকাল বিকেল ও আজ সকালে বৈদাহার ও ধানঘরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ইব্রাহিম আলী (বাবু) ও জামায়াতের কর্মী মিজানুর রহমান আছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোট গণনা বিলম্বকে কেন্দ্র করে গতকাল বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা, পরে সংঘর্ষ হয়। আজ সকালে পৃথকভাবে আবার হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, দুই দিনে উভয় পক্ষের হামলায় আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)