বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে রাজশাহীতে ব্যতিক্রমধর্মী মোটরসাইকেল ও কার র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেনসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকেরা একসঙ্গে এ আয়োজনে অংশ নেন। আজ শুক্রবার বিকেলে নগরের শাহ মখদুম ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন সড়কে জড়ো হন শতাধিক ফুটবলপ্রেমী। পরে মোটরসাইকেল, কার ও সাইকেল র্যালি হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দলের জার্সি ও পতাকা নিয়ে উপস্থিত হন। কেউ মোটরসাইকেলের সামনে, কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে, আবার কেউবা হাতে জাতীয় ও প্রিয় দলের পতাকা নিয়ে অংশ নেন। পাল্টাপাল্টি স্লোগানে এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল কেবল খেলা ঘিরে। এ সময় আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিশ্বকাপ উপভোগের আহ্বান জানান।
র্যালির আয়োজক সংগঠন ‘ফুটবল ফ্যানস অব রাজশাহী’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিএনবি মোড় থেকে শুরু হয়ে ফায়ার ব্রিগেড মোড়, মনিচত্বর, জিরো পয়েন্ট, তালাইমারী ও পুরোনো ফ্লাইওভার ঘুরে নতুন ফ্লাইওভারের সড়কে গিয়ে র্যালি শেষ হয়।
র্যালিতে অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনার সমর্থক ইমদাদুল হক বলেন, ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ উপলক্ষে আমরা একত্র হয়েছি। দীর্ঘ চার বছর পরপর বিশ্বকাপ আসে, আর সেই আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নিতে চাই। আমরা চাই, সুশৃঙ্খলভাবে খেলা উপভোগ করতে ও রাজশাহী থেকে এই ইতিবাচক বার্তা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে।’
আয়োজকদের অন্যতম সাকিব সরকার বলেন, ‘এখানে শুধু একটি দলের সমর্থক নন, রাজশাহীর সব বাইক ও কার গ্রুপকে একত্র করার চেষ্টা করেছি। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স—সব দলের সমর্থকেরা এখানে আছেন। আমরা দেখাতে চাই, ফুটবলের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নেওয়া যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক জায়গায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা আলাদা আলাদা র্যালি করেন। আমরা চেয়েছি, সবাইকে এক কাতারে আনতে। কারণ, কখনো কখনো দলীয় উন্মাদনা থেকে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। আমরা চাই, খেলা মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকুক।’
র্যালিতে অংশ নিয়ে সৈকত জোয়ারদার নামের এক তরুণ বলেন, ‘আমি জার্মানির জার্সি পরে এসেছি ব্রাজিল সমর্থক বন্ধুকে খোঁচা দেওয়ার জন্য। তবে আমার মূল সমর্থন আর্জেন্টিনা। এখানে সব দলের সমর্থকেরা একসঙ্গে এসেছি, এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আশা করি, ২০২২ সালের মতো এবারও আর্জেন্টিনা ভালো করবে।’ তিনি বলেন, ‘খেলার বিষয় খেলার মধ্যেই থাকবে। আমরা রাজশাহীর মানুষ, একসঙ্গে চলি–ফিরি, খেলাধুলা করি। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সম্পর্কের জায়গায় কোনো বিভেদ নেই।’
ব্রাজিল সমর্থকেরাও ছিলেন সরব। একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে বিশ্বকাপ শিরোপা নিয়ে হাস্যরস চলে। ব্রাজিল সমর্থক এক অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘পাঁচটা বিশ্বকাপ অন্য কারও নেই, ব্রাজিলের আছে। আমরা মিশন হেক্সা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সমর্থন করে যাব।’ এর জবাবে আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজেদের আশাবাদের কথা জানান।
ফ্রান্স সমর্থক আরাফাত বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে জিনেদিন জিদানের খেলা আমার খুব পছন্দ। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ দেখার পর থেকেই আমি ফ্রান্সের সমর্থক। এখনো সেই দলকেই সমর্থন করি। গত বিশ্বকাপেও আমরা শিরোপার খুব কাছাকাছি ছিলাম। এবারও আমি আশাবাদী।’