ক্ষতিকর রং ও সুগন্ধি দিয়ে তৈরি হচ্ছিল শিশুখাদ্য, আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

কোনো প্রকার আমের পাল্প এবং কমলার রস ছাড়াই ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য, রং ও সুগন্ধি ব্যবহার করে অনুমোদনহীন কারখানায় তৈরি হচ্ছিল আইস ললি ও ম্যাংগো জুসের মতো শিশুখাদ্য। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ চানাচুর, মরিচের গুঁড়া ও হলুদের গুঁড়ার প্যাকেট বদলে বাজারজাত করার জন্য নতুন মোড়কে ভরা হচ্ছিল।

গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে যৌথ অভিযানে গিয়ে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার গড় ফতেপুর এলাকায় মেসার্স ছালেক ফুড অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে এমন একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে বগুড়া জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

গতকাল বেলা ১১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ওই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় যথাযথ নিয়মে ভোগ্যপণ্য তৈরি, সংরক্ষণ ও বাজারজাত না করার দায়ে ওই কারখানার মালিককে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বগুড়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমির সালমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন। আদালতের সঙ্গে ছিলেন বিএসটিআইয়ের পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা (সিএম উইং) জুনায়েদ আহমেদ এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এ সময় ওই উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন পণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল ড্রিংকিং ওয়াটার, মশার কয়েল, আইস ললি, ব্যাটারির পানি, হ্যান্ডওয়াশ, টয়লেট ক্লিনার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ডিশ ওয়াশিং লিকুইড, বলপয়েন্ট পেন, শ্যাম্পু, চানাচুর, শর্ষের তেল, মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া।

বিএসটিআইয়ের পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমেদ বলেন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য ছিল ওই কারখানায় মাননিয়ন্ত্রণ সনদ ও যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই নানা পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ওই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। চানাচুর, মরিচের ও হলুদের গুঁড়া উৎপাদন ও বাজারজাত করার জন্য ছালেক ফুড অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে বিএসটিআই থেকে অনুমোদন নেওয়া ছিল। তবে ওই কারখানায় ‘সুরভী’ ব্র্যান্ড নামে চানাচুর, মরিচ ও হলুদের গুঁড়া বাজারজাত করা হচ্ছিল।

বিএসটিআই ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিএসটিআইয়ের মান সনদ ছাড়াই মানহীন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করায় প্রতিষ্ঠানের মালিককে ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং প্রায় আট লাখ টাকার পণ্য জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। অভিযানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা সহযোগিতা করেন।