লালমনিরহাটে এবি পার্টির নেতা ফিরোজ কবিরের বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের বিডিআর হাট রোডে
লালমনিরহাটে এবি পার্টির নেতা ফিরোজ কবিরের বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের বিডিআর হাট রোডে

লালমনিরহাটে এবি পার্টির নেতার বাড়ির সীমানাপ্রাচীর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

লালমনিরহাটে জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কেন্দ্রীয় সহপ্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবিরের বাড়ির সীমানাপ্রাচীর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের বিডিআর হাট রোডে এ ঘটনা ঘটে।

ফিরোজের প্রতিবেশী ও জাতীয়তাবাদী সাইবার দল নামের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. ফরহাদ আহমেদ ওরফে সম্রাটের নেতৃত্বে এ ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। এ সময় বাধা দিলে ফিরোজের ভাই আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার লালমনিরহাট সদর থানায় হুমায়ুব কবির একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফরহাদ আহমেদের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল দেশি অস্ত্র ও বুলডোজার নিয়ে এসে ফিরোজদের বাড়ির দক্ষিণ দিকে পাকা সড়কের পাশের ফটক ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেন। এ সময় হুমায়ুন কবির বাধা দিলে তাঁকে মারধর করতে করতে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় হুমায়ুনের স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে ফরহাদ আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সাথে হুমায়ুন কবিরদের জমিজমার বিরোধ আছে। এ নিয়ে মামলাও আছে।’ তবে তিনি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি থানায় ছিলাম না। ডিউটি অফিসার আল আমিনকে এ–সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে বাদী ফোনে জানিয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় এবি পার্টির নেতা ফিরোজ কবির ও তাঁর ভাই হুমায়ুন কবিরের সংবাদ সম্মেলন। আজ মঙ্গলবার লালমনিরহাট শহরের বিডিআর হাটে নিজ বাড়িতে

‘বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চায় থাকায় হামলা’

এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে বিডিআর হাট রোডে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবি পার্টির নেতা ফিরোজ কবির ও তাঁর ভাই হুমায়ুন কবির। এ সময় তাঁদের মা তাহেরা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ কবির বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি লালমনিরহাট-৩ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী ছিলেন। ১১–দলীয় জোটের প্রার্থীর সমর্থনে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন এবং জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে হুমকিধমকি দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।

এবি পার্টির প্রতিবাদ

এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবি পার্টি। গতকাল সোমবার দলটির সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ফিরোজ কবিরের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, দিনদুপুরে একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাড়ি ভেঙে দেওয়া কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। এটি শুধু ফিরোজ কবিরের ওপর হামলা নয়; বরং স্থানীয় প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক মতের ওপর নগ্ন দমন-পীড়নের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।